কূটনৈতিক প্রতিবেদক
অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ দমন, অভিবাসন, মানবপাচার, অর্থপাচার, মাদক, সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ এবং সঙ্কট ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। এই চুক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শুল্ক সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উভয়ের সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন।
ইইউর উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাস বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠকে এ মন্তব্য করেছেন। গত সোমবার ব্রাসেলসে এই বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে পিসিএর প্রাথমিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।
বৈঠক সম্পর্কে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ড. খলিলুর রহমান এবং কায়া কালাস পিসিএর প্রাথমিক স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান এবং এ চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেন। চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ-ইইউর কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো সুসংহত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এ চুক্তি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ও ইইউর পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে বলে তারা মতপ্রকাশ করেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইইউর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের চলমান সংস্কার, পুনর্গঠন ও উন্নয়নকার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউর শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য কালাসকে ধন্যবাদ জানান। মিজ কালাস একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিবাসন ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাজার প্রবেশাধিকারসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন এবং ইইউর সাথে আরো শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে ইইউর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য ইইউর অব্যাহত সম্পৃক্ততা কামনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলজিয়ামের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র, ইউরোপীয় ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোর সাথেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ সময়ে উভয়মন্ত্রী বাংলাদেশ- বেলজিয়ামের কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, উদ্ভাবন এবং উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো সুসংহত করার আশা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ এ বছরের শেষে ব্রাসেলসে তৃতীয় বাংলাদেশ-বেলজিয়াম দ্বিপক্ষীয় সংলাপ আয়োজনে সম্মত হন। একই দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের স্টার্টআপ, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক কমিশনার একাতেরিনা জাহারিয়েভার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও স্টার্টআপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় ‘হোরাইজন ইউরোপ’ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নসহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনুরোধ জানান।
একদিনের এ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নজরুল ইসলাম, জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান এবং বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইইউ মিশনের প্রধান খন্দকার মাসুদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
গণতন্ত্র প্রসারে যুক্তরাষ্ট্র এক অবিচল অংশীদার : গণতন্ত্র প্রসারে যুক্তরাষ্ট্রকে এক অবিচল অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক ডাকার আন্তর্জাতিক ফোরামের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিচার্ড মাইকেলসের সাথে সাক্ষাতের সময় প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রসার, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের সাথে তার কাজ করার অভিজ্ঞতাও রিচার্ড মাইকেলসকে বর্ণনা করেন।



