শঙ্খের ভাঙনে ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ আতঙ্কে উপকূলবাসী

Printed Edition
ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ : নয়া দিগন্ত
ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ : নয়া দিগন্ত

মো: নুরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে শঙ্খ নদের ভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের প্রবল স্রোতে মাঝির ঘাট থেকে নাপিত খাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে মাঝির ঘাট এলাকায় বাঁধের বড় একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদের পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জোয়ারের স্রোতও বেড়েছে। এতে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকায় বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। মাঝির ঘাট থেকে নাপিত খাল পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এয়ার মোহাম্মদ বলেন, প্রায় একসপ্তাহ আগে মাঝিরঘাট এলাকায় প্রায় ৫০০ ফুট বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। পানি আরো বাড়লে বাঁধ ভেঙে মৎস্য ঘের, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝিরঘাট এলাকায় শঙ্খ নদের প্রবল স্রোতে বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশেও একাধিক স্থানে ফাটল রয়েছে। জোয়ারের পানি বাড়লে এসব দুর্বল অংশ ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, বাঁধ ভেঙে গেলে জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ২ থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতঘর, মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষক কবির আহমদ বলেন, গত ২০ বছরে নদীভাঙনে ইউনিয়নের অনেক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এবার বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

জুঁইদণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান চৌধুরী খোকা বলেন, গত দুই সপ্তাহে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ শঙ্খনদে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাঝিরঘাটের ভাঙনকবলিত এলাকা সার্ভে করে ডিপিপি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, বাঁধে ফাটলের বিষয়টি জানার পর জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বালুভর্তি বস্তা ফেলার কাজও শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।