বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের জন্য এমন এক ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বিরোধী দল আসলে ভূমিকা রাখতে চাইলেও পারছে না। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাঠামোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা হয়তো কিছু সময় একটু কথা বলতে পারব, কিন্তু সেটা দিয়ে অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে না।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমি কি এখন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করছি? না, নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করছি না। কিন্তু জুলাই সনদের যে সংশোধনটি সংস্কার হিসেবে আসার কথা ছিল, যে একজন চাইলে তার দলের বিরুদ্ধে মতামত দিতে পারবেন, এটি না থাকার কারণে এমনকি সরকারি দলের মধ্যে এসব ব্যাপারে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তারা বলতে পারছেন না। সুতরাং মেজরিটি এখন গণ-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের বিপরীতে একটি বোঝার মতো হয়ে গেছে।’
সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
নয়া দিগন্ত : কিন্তু বাজেটের ওপর আলোচনায় যদি বর্ষীয়ান সংসদ সদস্যরা হাস্যরস ও ভিন্ন বিষয়ে অহেতুক আলোচনা শুরু করেন, এবং তা সম্প্রচারের সময় দেশবাসী দেখছে সংসদে সরকারি দলের সাথে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের শলাপরামর্শ হবে, আইন প্রণয়নে মেধার যাচাই ও আদান-প্রদান হবে এই অভাবটা তো তাহলে থেকেই গেল...।
মারদিয়া মমতাজ : কই, সংসদে তো তা হতে দেখছি না। যেমন ধরেন, আমরা এখন শুনতে পাচ্ছি দুদকের বিলটি কিছু দিনের মধ্যে চলে আসবে। আমরা এমনকি জানি না যে দুদক নিয়ে কী পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটিকে যে বিশ্লেষণের জন্য সংসদীয় কমিটিতে দেয়া হবে, সেসব কমিটিই এখনো গঠিত হয়নি। মাত্র কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোনো দিন এমন হয়নি যে সরকার গঠনের চার মাস হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনো স্থায়ী কমিটিগুলো গঠিত হয়নি।
নয়া দিগন্ত : মানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সস্তা ও উসকানিমূলক বক্তব্য আসছে সংসদে। নারীর পোশাক, হিজাব নিয়ে কথা হচ্ছে। হুইপরা তো তাদের দলের সংসদ সদস্যদের সংসদে কোন বিষয়ে কিভাবে কথা বলতে হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সংসদের কার্যপদ্ধতি আছে। তামাশা ও হাস্যরস যদি চলতেই থাকে, তাহলে কি সংসদ সদস্যদের কাউন্সেলিং প্রয়োজন রয়েছে?
মারদিয়া মমতাজ : আমার কাছে মনে হচ্ছে, এখানে একটি রাজনীতি আছে। রাজনীতিটা কী রকম? দেখেন, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য যা বললেন, এটি যদি একটি বিচ্ছিন্ন বক্তব্য হতো, তাহলে একধরনের বিষয় ছিল। কিন্তু তিনি এটি বলার সাথে সাথে আরো দু’জন সরকারি দলের সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে এটিকে সমর্থন করার চেষ্টা করেছেন। যদিও ডেপুটি স্পিকার কথা বলতে দেননি। তিনি বলেছেন, যেটা অলরেডি এক্সপাঞ্জড হয়ে গেছে, সেটি নিয়ে আর কথা বলা যাবে না।
এরপর আমরা দেখলাম বিএনপির একেবারে সরকারি লোকজন থেকে শুরু করে তাদের অ্যাক্টিভিস্ট পর্যন্ত, তারা যেভাবে এটি নিয়ে লিখে যাচ্ছেন, শুধু এটিকে সমর্থন করার জন্য। এবং করতে করতে এমন কিছু চরম পর্যায়ের কথা চলে আসছে, যেগুলো আরো বেশি আপত্তিকর।
একজন লিখছেন যে তিনি চান না তার মা কাজ করেন। তিনি চান না তার মা বাইরে আসুক; অর্থাৎ তার মায়ের সিদ্ধান্ত তিনিই দিয়ে দিচ্ছেন। আরেকজন লিখছেন, বাংলাদেশের সরকারের এটি খেয়াল রাখা উচিত যে এ ধরনের নেকাব পরা কেউ যেন সংসদ সদস্যের মতো পদে আসতেই না পারে। তাহলে তো আর ঝামেলাই হয় না।
এমপি মনিরুল হক সাহেব যা বলেছেন, সেটি তার এলাকার ঘটনা, অন্য একটি প্রোগ্রামের ঘটনা। তিনি ও এমপি ডা: তাহের একই এলাকার মানুষ, পারিবারিকভাবেও পরিচিত। তিনি একটি প্রোগ্রামে বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রী সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন সংসদে। এটি তো সংসদের কোনো সমস্যা নয়।
সংসদের মতো একটি পুরোপুরি কাঠামোবদ্ধ জায়গায়, যেখানে একটা হাঁচি-কাশি দিতেও নিয়ম আছে, পানি খেতেও উঠে গিয়ে খেয়ে আসতে হয়, সেখানে তিনি এ ঘটনাটা হাউজে নিয়ে এলেন। এবং এর পুনরাবৃত্তি বা সমর্থনে বক্তব্য দিচ্ছেন দু’জন সংসদ সদস্যসহ তাদের অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা এটিকে সমর্থন করছেন এবং এটিকে নিয়ে আরো সামনে যেতে চান।
বিষয়টি শুধু সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকই নয়; তারা এটি নিয়ে আরো এগোতে চান, কারণ সমাজের একটি গোষ্ঠীকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঠেকিয়ে রাখতে চান। এটি শুধু কাউন্সেলিংয়ের বিষয় নয়। এখানে যে রাজনীতি আছে, তা হলো, যারা নিকাব পরে, পর্দা করে, তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করা। হিজাব করা মানুষ রাজনীতি নিয়ে কথা বলুক, এটি তারা দেখতে চান না। আচ্ছা, এটি কোনো একটি দলের মতামত হতে পারে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই দলটিই আবার যখন পোশাকের স্বাধীনতার কথা বলে, নারীর স্বাধীনতার কথা বলে। যেমন- এবারের বাজেটে নারীকে খুব ভালোভাবে অ্যাড্রেস করা হয়েছে, নারীর স্বাধীনতা দরকার, এখন আমরা তো তাদের কাছে দেশের ধর্মপরায়ণদের নিরাপদ মনে করি না।
নয়া দিগন্ত : এই যুগে নারীদের পোশাক নিয়ে কথাবার্তা বলা, তাও সংসদে, এটি কি বডিশেমিং বা বৈষম্যের মধ্যে পড়ে না?
মারদিয়া মমতাজ : একটি ব্যাপার হচ্ছে, তারা শুধু বিরোধী দলের নারীদের অ্যাড্রেস করেননি। বাংলাদেশের অসংখ্য নারীকে, যারা হিজাব বা এ ধরনের পোশাক পরেন, তাদেরও অ্যাড্রেস করেছেন। তারা বলছেন, এসব মানুষের সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার অধিকার নেই, সংসদে আসার অধিকার নেই। এটির পেছনের যুক্তিটা কী? আমি যদি লেখাপড়া করি, আমার হিজাব-নিকাব আমাকে কোথায় আটকায়? এটি সমাজের একটি শ্রেণীকে নীরব করে দেয়ার একটা পদক্ষেপ। এবং এ ব্যাপারে তাদের কোনো দ্বিমত নেই। তারা সবাই একমত যে তাদের এমপি ঠিক বলেছেন।
নয়া দিগন্ত : তাহলে বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তার বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও স্পিকার তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জড করেছেন। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে বিএনপি সম্পর্কে কী বার্তা যাচ্ছে?
মারদিয়া মমতাজ : তারা সমাজের যারা হিজাব বা পর্দা করেন, সেই অংশটাকে একেবারে ব্রেইনলেস মনে করছেন। তিনি বলেছেন, তার স্ত্রী ও বড় মেয়ে হাতমোজাও পরেন। অনেকে বলেছেন, তাদের তিনি কোথাও বের করেন না।
তার মানে কি হিজাব-নিকাব দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো মেয়েরা যেন বাইরে বের হতে না পারে? অথবা যারা হিজাব পরবে, তাদের বাক্সের মধ্যে রাখতে হবে?
তারা এই মতবাদে বিশ্বাস করেন যে, যে পর্দা করতে চায়, তার কোনো চিন্তাশক্তি নেই; তাকে আটকে রাখতে হবে। এটি কোথাকার যুক্তি, আমি জানি না। এটি এমনকি ইসলামেও নেই।
নয়া দিগন্ত : দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা যখন বাড়ছে, তখন এ ধরনের বক্তব্য সংসদে দেয়ার পাশাপাশি সরকারি দলের নারী সংসদ সদস্যরাও তো টেবিল চাপড়ে হাস্যরসে সমর্থন দিচ্ছেন।
মারদিয়া মমতাজ : এখানে একটা ব্যাপার আছে। তিনি কিন্তু সবসময় এ রকম করে কথা বলেন এবং সবাই তার কথায় খুব আনন্দিত হয়। আমরাও অনেক সময় তার কথা পছন্দ করেছি।
এর আগেও তিনি সংসদে অনেক কথা বলেছেন। নারী সদস্যরা যা করেছেন, সেটা স্পেসিফিকভাবে ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’। ঠিক ওই সময় তার বক্তব্যের মধ্যে যে নারীর প্রতি অবমাননা ছিল, সেটা হয়তো তারা ধরতে পারেননি। আমি এখানে গুড ফেইথে থাকতে চাই।
কারণ বিএনপির নারী সদস্যদের মধ্যেও হিজাব পরেন, এমন মানুষ আছেন। যাদেরকে খুবই কালার করা হচ্ছে, তাদের কয়েকজনকে আমি ব্যক্তিগতভাবেই চিনি। তারা মোটেও এটিকে সমর্থন করার মতো নন। এবং তারা পরে আমাদের কাছেও বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদে আসা ঠিক নয়।
নয়া দিগন্ত : হিজাব তো এখন আর নারীর জন্য কোনো বাধা নয়।
মারদিয়া মমতাজ : ২০২৬ সালের নির্বাচন ছাড়া এর আগে কোনো দিন মহিলারা প্রচারণায় বের হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছে এভাবে হয়রানির শিকার হননি। হ্যাঁ, নোয়াখালীর সেনবাগে একটা ঘটনা ছিল। একজন মহিলা ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণে ভোটের পরে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাকে ধর্ষণ করে। কিন্তু এবার যখন প্রচারণার সময় মহিলারা বের হয়েছেন, তাদের হয়রানি করা হয়েছে, হিজাব ধরে টান দেয়া হয়েছে। ঢাকা-১০ আসনে ইট মেরে একজন মহিলার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। তার মানে আমাদের তখনই বোঝা দরকার ছিল। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে বারবার বলেছি যে এই দলটির কাছে রাজনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবেও নারীরা নিরাপদ নন।
নয়া দিগন্ত : অন্তর্বর্তী সরকার আমলের একজন নারী উপদেষ্টা বলেছেন, সংসদ কার্যত ডিবেটিং ক্লাবে পরিণত হয়েছে। সংস্কার নিয়ে বা আইন নিয়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আপনি অনেক আশা নিয়ে জীবনের প্রথম সংসদে গেছেন। আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?
মারদিয়া মমতাজ : এ ধরনের অভিযোগ কিছুটা হলেও ঠিক। এখানে একটা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদীয় কাজের ব্যাপারে তাদের আর কোনো দিকে তাকাতে হচ্ছে না। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধানে এখনো এটিই স্বীকৃত যে দলের মানুষ দলের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন না, তাহলে তার সদস্যপদ হারাতে হবে, এটির একটি সংশোধন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা জানেন, তারা যদি একটা বাজে জিনিস এনেও বলেন এটি মিষ্টি, সবাই বলবে, হ্যাঁ, এটি মিষ্টি। একটা ময়লা জিনিস এনে যদি বলেন এটি খাদ্য, সবাই বলবে, হ্যাঁ, এটি খাদ্য। তাই তারা জানেন, তারা যাই বলুন না কেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পাবেন। এ কারণেই সংসদে তারা যা ইচ্ছা তাই বলতে পারছেন।
দেখেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর সন্তানদের নামে উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সংসদে বলছেন, উপজেলার নাম দিগন্ত রাখা হয়েছে, কিন্তু আমার বাচ্চার নাম তো মীর দিগন্ত, সেটা তো রাখা হয়নি। তার মানে এটি একটি রসিকতা।
নয়া দিগন্ত : জুলাই আন্দোলনের পর মানুষ তো একটি কার্যকর সংসদ দেখতে চায়। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় কার্যকর সংসদ ছিল না। গণ-আকাক্সক্ষা নিয়ে আপনাদেরও একটা উপলব্ধি আছে।
মারদিয়া মমতাজ : এটি তো আমরা শপথের দিন থেকেই বুঝেছিলাম। তারা যখন গণপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন না, অথচ জুলাই সনদ তৈরিতে নিজেরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ঐকমত্য কমিশনে সবচেয়ে বেশি সদস্যই ছিলেন বিএনপি থেকে।
সে দিনই তারা বুঝিয়ে দিলেন যে আমরা যা করছিলাম, সেগুলো আসলে নাটক ছিল। এবং তারা স্বীকারও করেছেন যে আমরা যদি সেগুলোতে হ্যাঁ-হ্যাঁ না বলতাম, তাহলে নির্বাচনটি হতো না; অর্থাৎ তাদের দরকার ছিল নির্বাচন ও ক্ষমতা। তারা এটি লুকাচ্ছেন না। এখনো বলছেন। এখানে তারা জুলাই আন্দোলনের পুরো চেতনাটাই ধারণ করেন না, এটিও দেখাচ্ছেন। এবং যতটুকু পরিবর্তন দরকার, সে ব্যাপারেও তাদের কোনো ইচ্ছা নেই। তারা পুরনো নিয়মেই ক্ষমতা দখল করতে, ভোগ করতে ক্ষমতায় এসেছেন।
নয়া দিগন্ত : আপনি এখনো কতটা আশাবাদী সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার ব্যাপারে?
মারদিয়া মমতাজ : দেখেন, সাংবিধানিকভাবে বিষয়টি এমন যে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে বিরোধী দল কার্যকরভাবে খুব বেশি কিছু করতে পারে না। এখন আমরা আমাদের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী এটি জেনেই ওখানে গেছি। বিশেষ করে আমরা যারা নারী সদস্য, আমরা তো সময়ও পেয়েছি। তিন মাস পরেই আমরা দেখে-শুনে বুঝে গেছি। আমাদের মাথায় এটি আছে যে আমরা হয়তো অনেক বেশি কিছু পরিবর্তন করতে পারব না। কিন্তু আমরা কথা বলতে পারব।
কথা দিয়ে পরিবর্তন হয় কি? আপনারা ইতোমধ্যে দুটো ক্ষেত্রে দেখেছেন আদ-দ্বীন হাসপাতাল বলেন কিংবা ইসলামী ব্যাংক বলেন, সরকার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। আমরা সংখ্যায় খুব কম হলেও আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আমরা নোটিশ দিয়েছি। এসব বিষয়ে দেড় ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের পুরো ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আরো বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও হয়েছে। আমাদের এইটুকু চেষ্টা করতে হবে, এবং আমরা করে যাবো।
নয়া দিগন্ত : তাহলে লড়াইটা ভিন্ন ধরনের?
মারদিয়া মমতাজ : লড়াইটা গণতান্ত্রিকই হবে। জনসম্পৃক্ততা থাকায় আমাদের কথাকে ফেলে দেয়ার কোনো কারণ বা যৌক্তিকতা সরকারের কাছে নেই। আমরা ওই জায়গাটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছি- যে আমরা মানুষের সাথে আছি।
নয়া দিগন্ত : আপনি ভোটারদের বা অগণিত মানুষকে কী বলবেন?
মারদিয়া মমতাজ : আমি কখনোই বাংলাদেশের মানুষকে আশাহত হতে বলব না। দেখেন, আশা ছিল বলেই আমরা ১৭ বছর পরে ২৪-এ এসে পৌঁছেছিলাম। আশা থাকতে হবে। ২৪-এর পরও আশা হারানোর কিছু নেই। কিন্তু খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে কারা আসলে কী চায়। ওই যে বলে না ‘দিন তো আরো আছে, এ দিনই তো শুধু দিন না।’



