আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

Printed Edition
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি

কদম ফুল

রাহেলা আক্তার

বাদল দিনে বৃষ্টির ছোঁয়ায়

কেয়া কদম ফোটে

রুনুঝুনু নূপুর পায়ে

বর্ষা রানী ছোটে।

হাওয়ায় মাথা নেড়ে নেড়ে

হৃদয়ে দেয় দোলা

উদাস দুপুর সকাল সন্ধ্যা

যায় না তারে ভোলা।

মনলোভা কদমের ফুল

বৃষ্টিস্নানে হাসে

অধিক ঝড়ে ঝরে পড়ে

পুষ্করিণী ভাসে।

তুলে এনে খোঁপায় দিলে

মনটা ভরে ওঠে

খোকাখুকি ফুল কুড়াতে

দলবেঁধে সব ছোটে।

খোঁপায় গুঁজে কদমের ফুল

বেনি কাটে চুলে

বর্ষার প্রতীক জলে ভিজে

সুবাস ছড়ায় ফুলে।


বর্ষা ঋতুর সাজ

আশরাফুল আলম

বর্ষা যখন আসে রে

কদম কেয়া হাসে রে

শাপলা হাসে বেলী হাসে

হাসে গন্ধরাজ।

বর্ষা যখন আসে রে

কলার ভেলা ভাসে রে

ঝিরিঝিরি সুরটা যেন

বাজে হৃদয় মাঝ।

বর্ষা যখন আসে রে

কিষাণ দেখে হাসে রে

গরু দিয়ে লাঙল টেনে

করে মাঠের কাজ।

বর্ষা যখন আসে রে

পাল তোলা নাও ভাসে রে

গাছে গাছে সবুজ পাতা

বর্ষা ঋতুর সাজ।


পাল তোলা নাও

খোরশেদ আলম নয়ন

রিমঝিম বৃষ্টিতে নদী টলমল

জেগে ওঠে উচ্ছ্বাসে-আষাঢ়ের জল

ঝরা কদমের ঘ্রাণ আজো কাড়ে মন

স্মৃতির আঙিনাজুড়ে-মেঘলা জীবন।

বর্ষা কখনো সুখে-কখনো বা দুঃখে

জেগে আছে বাঙালির-জল ভরা বুকে

পাড়ি দিয়ে কত পথ-জীবনের বাঁকে

স্বপ্নের শৈশব আজো পিছু ডাকে।

মায়ের শাসন ভাঙা-জোয়ারের জল

এই বুকে বয়ে যায় আজো অবিরল

কলার খোসার নাও-জল থৈ থৈ

প্রিয় সেই ছেলেবেলা আজ গেল কই!

কাজল দীঘিতে ঝরা-হিজলের ফুল

রাঙাতো সে কৈশোর-মনের মুকুল

ভরা জোছনার রাতে-শাপলার বিল

চোখের তারায় আজো-করে ঝিলমিল।

প্রিয় মেঘনার তীর-শ্রাবণের নদী

বুকের ভেতর বয়ে যায় নিরবধি

গহীন গাঙের নাইয়া-তুমি কইয়া যাও

কোথায় হারিয়ে গেল-পাল তোলা নাও!


প্রার্থনা

মিয়া ইব্রাহিম

তুমি দিলে মুক্ত আকাশ, আকাশ ভরা তারা

তুমি দিলে নীলমণি হার, তাইতো বাঁধনহারা

তুমি দিলে দিবা রাত্রি, আঁধার এবং আলো

তুমি দিলে ঝর্ণা পাহাড়, দেখতে ভীষণ ভালো।

তুমি দিলে রোদ বৃষ্টি, চৈত্র মাসে খরা

রহমতের ছায়ায় তবু এই পৃথিবী ভরা

তুমি দিলে সাগর-নদী, সাগর ভরা জল

তুমি দিলে বৃক্ষরাজি, মজার মজার ফল।

তুমি দিলে বিশ্ব ভূবন, আমার প্রিয় নবী

সেই আনন্দে মন মননে, আঁকি তাঁরই ছবি

আজান বল কলেমা বল, থাকে তাঁর নাম

নামাজরতও জানাই তাঁকে দরুদে ছালাম।

বিপদ যদি আসে ধেয়ে, কাল বৈশাখী ঝড়ে

ছায়ায় রেখো আমায় তুমি, তোমার কাবা ঘরে।

তোমার তরে হাজার শোকর, আমি মুসলমান

নবীর শানে পাগল আমি, গাই যে তাঁর-ই গান ।


ব্রাজিল আর্জেন্টিনা

মুস্তাফা ইসলাহী

আর্জেন্টিনায় মেসি খেলে

ব্রাজিলেতে নেইমার,

বার্সেলোনায় খেলতো দু’জন

কেউ বলেনি, দেই মার।

পিএসজিতে খেলল পরে

হয়নি ঝগড়াঝাঁটি

একে অন্যের খবর রাখে

বন্ধু তারা খাঁটি।

বিশ্বকাপে খেলে তারা

তাদের দেশের জন্য

আমরা করি বাড়াবাড়ি

কিলাকিলি-মারামারি

কখনো হই বন্য!

আহা কী জঘন্য!


শাপলা ফোটা খই

জামসেদ ওয়াজেদ

বৃষ্টি যখন ঝরছে নরম কদম ফুলে

পালক মাখা মেঘ পোশাকের নূপুর খুলে

আকাশ জুড়ে গুড়ুম গুড়ুম বজ্র হানা

সবুজ মাঠে এই সময়ে ভিজতে মানা

বিলের কচি ঘাসের সুখে লুকিয়ে থাকা

আনন্দ আজ সবার জন্য যতেœ রাখা

বৃষ্টি সুখের রূপালী রঙ ছড়িয়ে দিয়ে

শাপলা ফোটা খইয়ের দিকে রই তাকিয়ে

ছবির মতো দেখতে মনে আমার এদেশ

ঘুম পাড়ানো গল্পশোনার হয়নিতো শেষ

বর্ষা দিনে হিজল ফুলের রঙিন ছোঁয়া

রাতের জলে দূরের আকাশ নীল চাঁদোয়া

আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষা নিয়ে ফিরছে ঘরে

ডাকছে যখন পাখিরা সব গানের স্বরে

ভুলাতে চায় শালিক পাখির দুঃখ স্মৃতি

বিলিয়ে দিয়ে পুষ্প এবং পাপড়ি বৃতি

বর্ষা মানেই হাজার রকম ফুলের মেলা

সূর্য কিরণ জলের সাথে নদীর খেলা

জল টই টই জল টই টই এমন দিনে

আমরা সবাই নতজানু আকাশ ঋণে।


মাছ ধরা

নূর মোহাম্মদ

সত্যি বলি

মুখ দিয়া

বিষ্টি গেল

সুখ দিয়া

হাঁটু পানি

খাল দিয়া

পুঁটি ছুটে

ফাল দিয়া

ধরছি ছোটো

চাঁই দিয়া

শোলটি গেল

বাঁয় দিয়া

ভরছি ডুলা

মাছ দিয়া

কাউয়া ঘুরে

কাছ দিয়া।