ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয়

আলজাজিরা
Printed Edition
প্যারিসে এলিসি প্রাসাদে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার : ফাইল ছবি
প্যারিসে এলিসি প্রাসাদে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার : ফাইল ছবি

জানুয়ারির শুরুতে ফ্রান্সের প্যারিসে ৩০টির বেশি পশ্চিমা দেশের নেতারা ইউক্রেনের জন্য নতুন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। রাশিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতি হলে এ নিশ্চয়তা কার্যকর হবে। ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ নামে পরিচিত এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ নিশ্চয়তাকে ‘দৃঢ়’ বলেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, চুক্তি হলে ইউক্রেনে সামরিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, জার্মান সেনারা যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে যোগ দিতে পারে, তবে তারা প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করবে। গত রোববার লিথুয়ানিয়া সফরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সরকার শতভাগ প্রস্তুত নিরাপত্তা নিশ্চয়তার চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ও ইউক্রেন সংসদে পাঠাতে। তিনি জানান, ‘আমাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা মানে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। দলিল প্রস্তুত, এখন শুধু স্বাক্ষরের তারিখ ও স্থান ঠিক করতে হবে।’ তবে দলিলটি এখনো প্রকাশ হয়নি এবং বাস্তবে কিভাবে কার্যকর হবে তা অনিশ্চিত।

ইউক্রেনের সাবেক মন্ত্রী ভলোদিমির ওমেলিয়ান বলেন, ‘যদি বাস্তব প্রয়োগের কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তবে আলোচনা শুরু করাই বৃথা।’ তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা রক্ষায় অর্থ, রাজনৈতিক সহায়তা, অস্ত্র, প্রযুক্তি দরকার। ওমেলিয়ান আশঙ্কা করেন, এসব নিশ্চয়তা না থাকলে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে আবার আগ্রাসন চালাতে পারে। কিয়েভভিত্তিক ইউক্রেনিয়ান সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন সেন্টারের উপপ্রধান ওলেসিয়া হোরিয়ানোভা বলেন, ইউক্রেন শুধু মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ জেতে সেনারা; কিন্তু যুদ্ধ শেষ হয় লজিস্টিকসে।’ বর্তমানে রাশিয়া বিপুল অস্ত্র জমাচ্ছে। তাই ইউক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা ছিল ৩৫ বিলিয়ন ইউরো; কিন্তু অর্থের অভাবে অর্ধেক ব্যবহার হচ্ছিল। ২০২৬ সালে যথাযথ বিনিয়োগ পেলে এ সক্ষমতা দ্বিগুণ হতে পারে। কিয়েভভিত্তিক সেন্টার ফর ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান ওলেক্সান্দর খারা বলেন, স্বাধীন প্রতিরক্ষা উৎপাদন ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করবে। তিনি মনে করেন, এসব নিশ্চয়তা আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূখণ্ড ছাড়ের তিক্ত বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা। তার মতে, ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ নয়- বরং ‘নিরাপত্তা আশ্বাস’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত।

প্যারিস সম্মেলনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রোটোকল ইউক্রেনে নতুন হামলা ঠেকাতে সাহায্য করবে। তবে ইউক্রেনীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, মিত্ররা জরুরিতা দেখাচ্ছে না। ওমেলিয়ান বলেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে প্রতিক্রিয়া জানাতে সপ্তাহ বা মাস লেগে যেতে পারে, যা ইউক্রেন সেনাদের জন্য মারাত্মক। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনেই ইউক্রেন সেনাদের লড়াই করতে হবে। সক্ষম হলে স্বাধীনতা রক্ষা হবে, না হলে ব্যর্থতা।’