নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি অতি সংবেদনশীল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ভিত্তিই হলো শতভাগ নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো: সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অবিলম্বে মো: সামসুল আলমের বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একই সাথে, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় ঘোষিত স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্কীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং দলীয়করণের অবসানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, এরই মধ্যে জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন করপোরেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জনগণের দেয়া গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সাথে করা অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পরিবর্তে সংবিধানের আলোকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা। একই সাথে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, দেশে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ বৃদ্ধি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদপেক্ষ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও সরকারি সম্পদের বণ্টনেও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ উঠছে, যা সুশাসন ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে সমতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ বন্ধ, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া নিয়োগ বাতিল, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার দাবিতে জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, সুশাসন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলমান থাকবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ছয় বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় শোক : গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন বাংলাদেশী নাগরিকের করুণ মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ শোক প্রকাশ করেন।



