ভোলায় লবণবোঝাই ট্রলারডুবি প্রাণে বাঁচলেন ৭ জন

গভীর রাতে জাহাজের ধাক্কা

Printed Edition

ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার মেঘনা নদীতে প্রায় ৩০০ টন লবণবোঝাই একটি মালবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ট্রলারে থাকা সাত শ্রমিক জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।

ঘন কুয়াশার কারণে দুই নৌযানের সংঘর্ষে বৃহস্পতিবার রাত ২টায় ভোলার মেঘনা নদীর তুলাতলি পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটি উদ্ধারে কাজ করছে ডুবরি দল।

ট্রলারের শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কুতুবদিয়া থেকে থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দোলোয়ারা নামে মালবাহী ট্রলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ভোলা অংশ দিয়ে যাচ্ছিল। মধ্যরাতে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে এটি তুলাতলী ঘাটের কাছাকাছি এসে নোঙর করে।

রাত ২টার দিকে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি জাহাজ ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হতে থাকলে দ্রুত তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। কিন্তু ততক্ষণে সেটি ৯৫ ভাগ ড্রবে যায়।

তখন ট্রলারে থাকা ৭ শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে সকালে মালিক পক্ষ সেটি উদ্ধার কাজ শুরু করে। শ্রমিক বিল্লাল হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, রাতের আঁধারে কোনো একটি জাহাজ এসে ট্রলারে ধাক্কাা দেয়, তখন এটি ধীরে ধীরে ডুবতে শুরু করে। তখন সেটি আমরা দ্রুত চালিয়ে তীরে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। পরে আমরা সবাই সাঁতরে জীবন বাঁচাই।

এ দিকে ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের দু’টি দল। তারা উদ্ধারকাজে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তায় কাজ করছেন। এ ব্যাপারে ভোলা নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানায় নৌপুলিশ।

ট্রলারটিতে প্রায় ৩০০ টন লবণবোঝাই ছিল বলে জানা গেছে, যার মূল্য ১৭ লাখ টাকা।

দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আরিফুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি ট্রলারটির ওভারলোড এবং ফিটনেস ছিল কি না সেটি দেখা হবে।