নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরে আসতে আমাদেরকে লোভ দেখানো হয়েছে, চাপও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো লোভ কিংবা চাপ আমাদেরকে জনগণের গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি থেকে একচুলও সরাতে পারবে না। প্রয়োজনে জীবন যাবে তবুও জনগণের সাথে সরকারের মতো বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না, করবও না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয়বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী নিজেও নির্বাচনের আগে সংস্কারের পক্ষে দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের দিনেই বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীসহ তার দলের সব সংসদ সদস্য জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেননি। এর মাধ্যমে তারা শুধু জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই করেননি, তারা জাতির সাথে ধোঁকাবাজিও করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বের ক্রেডিট তরুণ প্রজন্মের। দেশবাসীর জীবন ও রক্তের ফসল হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। এই আন্দোলনে একক কোনো ব্যক্তি বা দল মাস্টারমাইন্ড দাবি করলে জাতি সেটি মানবে না, বরং ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা জুলাই যোদ্ধাদের বিভাজন চাই না। তাদেরকে নিয়ে রাজনীতি করা পছন্দ করি না। তিনি বলেন, এখনো হাসপাতালে জুলাই যোদ্ধারা কাতরাচ্ছে, ঘরে বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছে কিন্তু তাদের দিকে সরকার তাকাচ্ছে না। শহীদ পরিবারের দায়িত্ব ও আহতদের পুনর্বাসন করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু সরকার সেই কর্তব্য পালনের পরিবর্তে ভিন্ন পথে হাঁটছে। তিনি আরো বলেন, ওনারা (সরকার) বলছেন, মাত্র ৫ মাসে আমরা (বিরোধী দল) এত ব্যস্ত হলাম কেন? আমি তাদের পাল্টা প্রশ্ন করব, মাত্র ৫ মাসে আপনারা এত বিশ্বাসঘাতকতা করলেন কেন? কেন ফ্যাসিবাদের ফটোকপি হিসেবে আবির্ভূত হলেন? এ জন্যই আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আপসহীন, তীব্র এবং বিজয় ছিনিয়ে আনার। জনগণের অধিকার হরণ হলেই অগ্নিগিরি হয়ে আমরা জ্বলে উঠব।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপির) চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমি বিগত কয়েক মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করেছি বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। আমাদেরকে এমন জায়গায় ঠেলে দেবেন না- যাতে আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু আপনি আমাদের সেই অনুরোধ শুনেননি। আপনার দলের নেতারা আপনাকে পতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, অতীতের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না। এ জন্য হেলমেট বাহিনী সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি থেকে ফিরে আসতে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এই ধারা বজায় রাখলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হেলমেট বাহিনী সন্ত্রাসীদের যেই পরিণতি হয়েছে তারচেয়ে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ক্ষমতায় থাকতে চাইলে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দু’টি ভোটেরই ফলাফল মানতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যেখানেই যাই মানুষের সর্বত্র একটাই দাবি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, আর যা ঘটিয়েছেন তার মধ্যে কোনো মিল আছে কি না প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এক দিকে দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল, যুবদলের হেলমেট বাহিনীকে দিয়ে বিরোধী দলমতকে আক্রান্ত করবেন, রক্তাক্ত করবেন আরেক দিকে বলবেন ঐক্য বজায় রাখতে! এটাই ফ্যাসিবাদের আচরণ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক জুলাইযোদ্ধা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির লন্ডন চুক্তির পার্ট হননি। তিনি আজ জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েও সেখানে না গিয়ে রাজপথে জনতার কাতারে এসে হাজির হয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াত আমিরের প্রশংসা করে বলেন, তিনি এক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্ত হচ্ছে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ না দেয়া।
নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী বলেন, গণভোটের গণরায় অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে, যা কল্পনাও করতে পারবেন না।
আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৫ আগস্ট মানে মুক্তি। তিনি আরো বলেন, আজকের বিএনপি বেগম জিয়ার বিএনপি নয়। এই বিএনপি আপসকামী বিএনপি। এই বিএনপি গণবিরোধী কাজ করে হাসিনার পথে যাত্রা শুরু করেছে। বিএনপি যদি হাসিনার পথেই হাঁটতে থাকে প্রয়োজনে আমরা আবারো গুপ্ত হবো। তবুও গণভোটে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি আমরা আদায় করবই, করব।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীত ভুলে যাবেন না। নব্য স্বৈরাচার হবেন না। নতুবা জনগণের রোষানল থেকে রক্ষা পাবেন না।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, আজকের এই দিনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে। কিন্তু দুই বছর যেতে না যেতেই নতুন সরকার আবারো সেই পুরনো ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে এনেছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিকের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ফয়সাল, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত উল্লাহ টুটুল, বিডিপির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, লেবার পার্টির মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।
স্থিরচিত্র প্রদর্শনী : গতকাল বিরোধীদলীয় নেতার মিন্টুরোডের সরকারি বাসভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যাপক দিলারা বেগম, ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের নির্বাহী সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুর ইসলাম মাসুদ, রাশেদুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, এই বাংলাদেশের জন্য জুলাই যোদ্ধারা জীবন দেয়নি। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এইদিন না হলে বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেতেন না। তারেক রহমান দেশে আসতে পারেননি। ফ্যাসিবাদীদের তাড়ানোর কারণে এটি হয়েছে। এজন্য বলব অবিলম্বে জনগণের রায় মেনে গণভোটের যে রায় তা মেনে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিন। পরে ডা: শফিকুর রহমান অতিথিদের নিয়ে স্থিরচিত্রগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।
আহতদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধী দলীয় নেতা : গতকাল দুপুরে ডা: শফিকুর রহমান গত ৪ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। এ সময় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, জামায়াত নেতা কামাল হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যেভাবে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, একই কায়দায় ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরাও তাণ্ডব চালাচ্ছে। ঢাকা আলিয়া মাদরাসার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা আলিয়ার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ যখন তাদের বিরত রাখার চেষ্টা করেন, তখন তাকেও হামলা করা হয়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাকে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। একজন সম্মানিত শিক্ষককেও তারা ক্ষমা করেনি। তিনি বলেন, এসব ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি অতীত থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। আমরা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- আপনারা শুধু এসব কর্মকাণ্ড থেকে নেতাকর্মীদের বিরত রাখবেন না; যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কী দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়, সেটিও জনগণ দেখতে চায়। তা না হলে আমরা ধরে নেব- বিএনপির পরোক্ষ ইন্ধনেই এসব তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আহতদের ওপর হাসপাতালেও হামলা চালানো হয়েছে। এমনকি আহত ব্যক্তিদের স্বজনরাও ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা থেকে রেহাই পাননি। একজন আহত ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ ধরনের পাশবিক হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও স্মৃতি সম্মেলন : সন্ধ্যায় জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি জুলাই অভ্যুত্থানে প্রকৌশল অঙ্গনের শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই : চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও স্মৃতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। রমনা আইইবি অডিটোরিয়ামে দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ দেশের প্রকৌশলী অঙ্গনের নেতারা বক্তৃতা করেন।



