নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জ শহরের ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী মো: ওয়াজেদ সীমান্ত (২০) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

গতকাল সোমবার বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওয়াজেদ সীমান্ত এআইইউবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ নগরীর দেওভোগ এলাকার মো: আলম পরাভেজের ছেলে।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ভোরে দেওভোগের বাসা থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগারের সামনে সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ও এক হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায় তারা।

গুরুতর আহত সীমান্তকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

বাদিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ নগরীর সুকুমপট্টি এলাকার মো: নয়নের ছেলে মো: অনিক (২৭), মো: কাশীপুরের মৃত অমর খানের ছেলে আকাশ খান ওরফে সাইদুর রহমান (৩৬) এবং চাঁদপুর সদরের মৃত জাহাঙ্গীরের ছেলে বাবু ওরফে চান্দি বাবু ওরফে টাইক্কা বাবু (৪৫)।

এ আইনজীবী জানান, অনিকের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আকাশের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। চান্দি বাবুর বিরুদ্ধে ২০২০ সালে নগরীর দ্বিগুবাবুর বাজারের সামনে এক সবজি ব্যবসায়ীকে ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে। আকাশের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে ছিনতাইয়ের সময় হত্যার অভিযোগের একটি মামলা রয়েছে। অন্য মামলাগুলো মাদক কারবার, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের অভিযোগে করা।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত সীমান্তের বাবা মোহাম্মদ আলম পরাভেজ। তিনি রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।