ক্রীড়া ডেস্ক
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে স্প্যানিশ দুই জায়ান্ট বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের লড়াই। ন্যু ক্যাম্পে গত পরশু হয়ে গেল প্রথম লেগের ম্যাচটি। ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আশা দেখাল হ্যান্সি ফিকের দল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত জুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সরলথের কাছে হার মানতে হলো বার্সেলোনার। স্প্যানিশ ‘ডার্বি’তে ২-০ গোলের জয়ে সেমির পথে অনেকটা এগিয়ে গেল দিয়েগো সিমিওনের দল।
শেষ আটের প্রথম লেগে অন্য ম্যাচে উজ্জীবিত পিএসজির সামনে রীতিমতো কোণঠাসা ছিল ইংলিশ কাব লিভারপুল। ঘরের মাঠে দেজিরে দুয়ে ও খাভিচা কাবারাস্কিলিয়ার গোলের সুবাদে ইংলিশ প্রিমিয়ার কাবটিকে ২-০তে হারিয়ে সেমির পথে এগিয়ে গেল ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গত বছর রাউন্ড অব ১৬-এ ঘরের মাঠে জিতেছিল পিএসজি। এরপর ফিরতি লেগে লিভারপুল জয়ী হলে দুই দলের গোল সমান হওয়ায় পেনাল্টিতে জয়ী হয়েছিল পিএসজি। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার শিরোপাও ঘরে তুলেছিল লুইস এনরিকের দল। অ্যানফিল্ডে ফিরতি লিগে আগামী সপ্তাহে কি এবার চমক দেখাতে পারবে লিভারপুল? নাকি গত আসরের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে অল রেডদের হতাশা বাড়িয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে পিএসজি?
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল বার্সেলোনা; কিন্তু তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি ম্যাচের ৪৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। একজন কম নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে আক্রমণের ঝড় তুলল বার্সেলোনা। এতে অনেক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না লামিনে ইয়ামাল, মার্কাস রাশফোর্ডরা। গত মার্চে বার্সাকে হারিয়েই কোপা দেল রের সেমিফাইনালে উঠেছিল অ্যাথলেটিকো। আর চলতি সপ্তাহেই লা লিগায় আবার জিতেছিল বার্সা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বার মুখোমুখি লড়াইয়ে আবার এগিয়ে গেল সিমিওনের দলই। আর ১০ জনের দলকে পেয়ে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০০৬ সালের পর বার্সেলোনাকে হারাতে পারল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
ন্যু ক্যাম্পে বল পজিশন ও আক্রমণে অনেক এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। এ সময় গোলের জন্য নেয়া ১৫ শটের আটটি লক্ষ্য রাখলেও জালের দেখা পায়নি স্বাগতিক দল। অপর দিকে পাঁচ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুই গোল আদায় করে নেয় সফরকারীরা। অবশ্য ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ দিকে। দিয়েগো সিমিওনের ছেলে জুলিয়ানো সিমিওনে বার্সার ডি-বক্সে যখন ঢুকছিলেন, তখন তাকে পেছন থেকে ফাউল করেন ১৯ বছর বয়সী কুবারসি। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত বদলে লাল কার্ড দেখান। এই লাল কার্ডই সর্বনাশ বার্সার।
সেই ফাউল থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে ম্যাচের ৪৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে অ্যাথলেটিকোকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার প্রধান ভরসা ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ড। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বারবার অ্যাথলেটিকোর রণে কাঁপুনি ধরিয়েছেন। প্রথমার্ধে একবার জালে বলও জড়িয়েছিলেন; কিন্তু লামিনে ইয়ামাল অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সা লেভানোদোভস্কি ও পেদ্রিকে তুলে গাভি ও ফেরমিন লোপেজকে নামায়। ১০ জন নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেও ভাগ্যের সহায়তা পায়নি কাতালান কাবটি। এর মাঝেই ৭০ মিনিটে গ্রিজমান ও রুগেরির দারুণ সমন্বয়ে আসা ক্রস থেকে গোল আদায় করে নেন সরলথ। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বার্সা।



