ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রার্থিতা ফিরে পেতে আজ থেকে ইসিতে আপিল

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হলেন এক হাজার ৮৪২ জন। বাতিল হওয়া ৭২৩ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আজ থেকে আপিলের সুযোগ পাবেন, যা চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইসির পুরো কমিশন বেঞ্চ বসে এই আপিলের শুনানি করবেন ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। সারাদেশকে ১০টি নির্বাচনী অঞ্চলে ভাগ করে ইসি চত্বরে আপিল গ্রহণের জন্য পৃথক পৃথক ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে ৫১টি রাজনৈতিক দলের দুই হাজার ৯১ জন এবং ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট দুই হাজার ৫৬৯টি মনোনয়নপত্র দাখিল।

বেগম জিয়ার তিন মনোনয়নপত্র : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছিল। তিনি মৃত্যুবরণ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে তাঁর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।

অঞ্চলভিত্তিক বৈধ ও বাতিল : রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য থেকে ইসি জানায়, ইসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের ৩৩টি আসনের বিপরীতে ২৭৯টি জমা পড়ে। বৈধ হয়েছে ২১৯টি এবং বাতিল হয়েছে ৫৯টি। রাজশাহী অঞ্চলের ৩৯টি আসনের বিপরীতে ২৬০টি জমা পড়ে। বৈধ হয়েছে ১৮৫টি এবং প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে ৭৪জনের। খুলনা অঞ্চলের ৩৬টি আসনের বিপরীতে ২৭৫জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ১৯৬জন বৈধ এবং ৭৯জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের বিপরীতে ১৬২জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে বৈধ প্রার্থী ১৩১ জন এবং বাতিল হয়েছে ৩১ জনের। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৩৮টি আসনের বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৩১১জন। আর প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে ১৯৯ জনের। বাতিল হয়েছে ১২২ জনের। ঢাকা অঞ্চলের ৪১টি আসনের বিপরীতে ৪৪২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ৩০৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়। ১৩৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫টি আসনের বিপরীতে ১৪২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ৯৬ জনের প্রার্থিতা বৈধ হয়। আর ৪৬ জনের বাতিল হয়।

সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের বিপরীতে ১৪৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। ১১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩৬ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়। কুমিল্লা অঞ্চলের ২৫টি আসনের বিপরীতে ৩৫৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ২৫৯ জনের বৈধ এবং ৯৭ জনের বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৩টি আসনের বিপরীতে ১৯৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ১৩৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৫৬ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আপিলকারীদের জন্য ৭ নির্দেশনা : আপিলকারীদের জন্য ইসির পক্ষ থেকে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে। আর নির্দেশনাগুলো হলো, আপিল কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে। আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সম্বলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে। আবেদনের একটি মূল কপিসহ সর্বমোট ০৭ (সাত) টি কপি দাখিল করতে হবে। আপিল নির্বাচন কমিশনের আপিল গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে। আপিল ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ হতে ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে দায়ের করতে হবে। আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে। ওই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ হতে সংগ্রহ করা যাবে। আর আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

এদিকে, ইসির তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে গতকাল ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি : ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। ওই দিন থেকেই প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনয়নপত্র দাখিল : ইসির তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৩৩১ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২৭৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ২৬৮ জন, জাতীয় পার্টির ২২৪ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৫৩ জন, গণ অধিকার পরিষদের (জিওপি) ১০৪ জন, খেলাফত মজলিসের ৬৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৯৪ জন, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ ৪২ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ২৪ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন, গণফোরাম ২৩ জন, গণফ্রন্ট ৬, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) একজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ৩১ জন, জাকের পার্টি সাতজন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৪১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) তিনজন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১৪ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ২৩ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ পাঁচজন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) সাতজন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) ২০ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ৯ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ৮ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) ২১ জন, জনতার দল ২৩ জন, আমজনতার দল ১৭ জন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) একজন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ছয়জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৭ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ২২ জন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি দু’জন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) ৯ জন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৯ জন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ১৩ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৪৪ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ৩০ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মটরশ্রমিক দল একজন এবং অন্যান্য একজন।

আপিল দায়েরের জন্য নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ : বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল) : মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা।

বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল) : জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা।

বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল) : পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা।

বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল) : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।

বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।

বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল) : সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল) : টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ।

বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল) : জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।

বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল) : বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর।

বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল) : রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর।