কলেজে ভর্তি যোগ্যতায় এগিয়ে থাকবে বেশি নম্বরের শিক্ষার্থীরা

উচ্চ আদালতের আদেশের মাধ্যমে ঢাকার চারটি কলেজে এবারো ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। এ চারটি কলেজ হচ্ছে নটর ডেম হলিক্রস, সেন্ট যোসেফ ও সেন্ট গ্রেগোরি কলেজ।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition
  • বিশেষ সুবিধা পাবেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ বা আহত পরিবারের সদস্য
  • আগস্টে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে সেপ্টেম্বরে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা

শহরকেন্দ্রিক ভালো কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা এখন থেকেই তৎপড়তা শুরু করেছেন। নিচ্ছেন ভর্তির সংক্রান্ত নানা তথ্য উপাত্ত। তবে বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে যেকোনো কলেজেই ভর্তির যোগ্যতায় এগিয়ে থাকে এসএসসিতে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরাই। যদিও কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত জিপিএ উল্লেখ থাকে কিন্তু প্রকৃত অর্থে ভর্তির জন্য মূলত প্রাপ্ত মোট নম্বরই বিবেচনায় নেয়া হয়। চলতি বছরেও ঠিক একই নিয়মে কলেজে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচিত করা হবে।

অন্য দিকে উচ্চ আদালতের আদেশের মাধ্যমে ঢাকার চারটি কলেজে এবারো ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। এ চারটি কলেজ হচ্ছে নটর ডেম হলিক্রস, সেন্ট যোসেফ ও সেন্ট গ্রেগোরি কলেজ। এসব কলেজে ভর্তির জন্য অপেক্ষাকৃত ভালো জিপিএ প্রাপ্ত (জিপিএ ৫ কিংবা গোল্ডেন জিপিএ) শিক্ষার্থীরাই অগ্রাধিকার পায়। তবে এই চারটি কলেজে ভর্তির জন্য জিপিএ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মেধা যাচাই করার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়।

অবশ্য চলতি বছর কলেজ ভর্তি নীতিমালায় জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নীতিমালায় কিছুটা পরিবর্তন এনে হলেও জুলাই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের বাড়তি সুবিধা দেয়া হতে পারে। এরইমধ্যে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এমন একটি সুপারিশ পাঠিয়েছে। যা অনুমোদন পেলে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের একাদশ শ্রেণীর ভর্তি কার্যক্রম থেকেই এটি কার্যকর হবে।

বিগত বছরে ভালো কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের দেয়া তথ্যমতে এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা যারা ১২২০ এর অধিক নম্বর পেয়েছেন তারা যেকোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে চলতি বছরে যেহেতু পাসের হার কম এবং জিপিএ ৫ এর সংখ্যাও কম তাই এবার ১২০০ এর অধিক নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও সুযোগ বেড়েছে। তবে মাঝারি মানের কলেজগুলোতে ১১৮০ থেকে ১২০০ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের ভর্তির জন্য চেষ্টা করতে পারেন। আবার ঢাকার কিছু কলেজে ১১৫০ এর বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরাও ভর্তির আশা রাখতে পারেন। সব মিলিয়ে যেকোনো কলেজে ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে জিপিএ ৫ চাওয়া হলেও প্রকৃত পক্ষে কে কোন কলেজে ভর্তি হতে পারবে তা নির্ভর করছে মূলত শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই। চলতি বছরেও অনলাইনে কলেজে ভর্তির আবেদন করতে হবে। ভর্তিচ্ছু প্রত্যেক শিক্ষার্থী ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কলেজে ভর্তির আবেদন করবেন। তিনটি ধাপে আবেদন করা যায়। প্রথম ধাপে পছন্দের কলেজ না পাওয়া গেলে দ্বিতীয় প্রয়োজনে তৃতীয় ধাপেও আবেদন করা যাবে। কলেজ পছন্দের জন্য একজন শিক্ষার্থী তার একটি আবেদনেই ১০টি কলেজ পছন্দ (ক্রমানুসারে) দিতে পারবে।

সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের পর এখন সবাই কলেজে ভর্তির বিষয়েই মোটামোটি খোঁজখবর রাখছেন। তবে এ বছর পাসের হার বিগত বছরের তুলনায় কম থাকায় কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা থাকবে কম। এর পরেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে ভর্তির জন্য সবার কপারেই এখন থেকেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে শিগগির। চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির একটি খসড়া নীতিমালা এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এ নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হতে পারে কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিতে যুক্ত হতে পারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোটা। ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের শিক্ষার্থীরা এই বিশেষ কোটা পাবেন। যদিও বর্তমানে কলেজ ভর্তির নীতিমালায় মোট ৭ শতাংশ কোটা রয়েছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দফতরের জন্য বরাদ্দ। আবার কলেজ পর্যায়ে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। নাতি-নাতনীদের কোটাও উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। তাই বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার বাস্তবতা পর্যালোচনা করে একে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের একাদশ শ্রেণীর ভর্তি নীতিমালায় বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। কোটাব্যবস্থা, মেধাক্রম অনুযায়ী অগ্রাধিকার, মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং বেসরকারি কলেজগুলোর সঙ্কট বিবেচনায় খসড়া তৈরি করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নতুন নিয়মে ভর্তি কার্যক্রমে সময়সীমা নির্ধারণ, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার প্রতি উৎসাহ এবং কমমানের কলেজগুলোর সঙ্কট নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ব্যানবেইস ও শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ৯ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণীর জন্য আসন রয়েছে প্রায় ২২ লাখ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পর্যায়ে আরো ৯ লাখ আসন রয়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রয়েছে প্রায় দুই লাখ ৪১ হাজার আসন। সব মিলিয়ে দেশে একাদশে ভর্তিযোগ্য আসনের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ২৫ হাজার। অথচ এ বছর এসএসসি পাস করেছে মাত্র ১৩ লাখ। ফলে দেখা যাচ্ছে, সাড়ে ২০ লাখেরও বেশি আসন খালি থাকবে। বোর্ডের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর অন্তত ২২০টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা ও পরিকল্পনার অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে।

অন্য দিকে নটর ডেম, হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফ কলেজের মতো মিশনারি পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এবারো নিজস্ব নিয়মে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। নটর ডেম কলেজের অধ্যক্ষ হেমন্ত পিউস রোজারিও বলেন, আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বছরই নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করি। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না। হলিক্রস ও সেন্ট যোসেফ কলেজও একইভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেই শুরু হবে একাদশ শ্রেণীতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ। তিনটি ধাপে আবেদন ও মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবার পাসের হার হয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত বছরের ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।