গাছবাসী প্রাণীদের নিরাপদ যাত্রায় মধুপুরে ৫ উড়ালসেতু

Printed Edition
মধুপুরে জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের জন্য উড়াল সেতু : নয়া দিগন্ত
মধুপুরে জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের জন্য উড়াল সেতু : নয়া দিগন্ত

আলকামা সিকদার মধুপুর (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন মধুপুর জাতীয় উদ্যানকে চিরে দুভাগে বিভক্ত করেছে। সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে খাবারের সন্ধানে যেতে গিয়ে বেপরোয়া যানবাহনের চাকার নিচে প্রাণ হারায় অসংখ্য বন্যপ্রাণী। কিন্তু এখন সে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে। গাছে বিচরণকারী প্রাণীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারে পাঁচটি পয়েন্টে নির্মাণ করা হয়েছে উড়াল রজ্জুপথ বা রোপওয়ে। বানর, হনুমান, গন্ধগোকুল, মেছোবিড়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এখন এ কৃত্রিম সেতু ব্যবহার করছে নিরাপদে, নিশ্চিন্তে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা এই সড়কে প্রতিদিন হাজারো গাড়ি চলাচল করে। বনের প্রাণীরা প্রায়ই খাবারের সন্ধানে কিংবা আবাসস্থল বদলাতে সড়ক পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। বন বিভাগের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, প্রতি বছর এ ধরনের দুর্ঘটনায় বহু হনুমান, বাঘডাসা, গন্ধগোকুল ও অন্যান্য প্রাণী মারা যায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় টাঙ্গাইল বন বিভাগ মহাসড়কের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাছের সাথে গাছ সংযোগ করে রোপওয়ে নির্মাণ করে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি এসব উড়ালসেতু প্রাণীদের জন্য সহজ ও নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরি করেছে।

স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি এ সড়কে চলাচল করে। দর্শনার্থীরা অনেক সময় ফলমূল ফেলে প্রাণীদের আকৃষ্ট করেন, যা তাদের সড়কের কাছে নিয়ে আসে। এতে দুর্ঘটনা বাড়ে। তাই দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক স্পট তৈরি করা জরুরি। এ ছাড়া এ উড়ালসেতুর সংখ্যা আরো বাড়ানো দরকার, কারণ বনের বিস্তৃতি ও প্রাণীসংখ্যার তুলনায় পাঁচটি সেতু যথেষ্ট নয়।’

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, ‘সড়কের এ অংশে প্রাণী দুর্ঘটনা ছিল উদ্বেগজনক। সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও অধিকাংশ চালক তা মানেন না। তাই প্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, একসময় মধুপুর বনাঞ্চল প্রায় ৬২ হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল। কিন্তু ব্যাপক বন উজাড়, খাদ্য সঙ্কট ও আবাসস্থল সঙ্কুুচিত হওয়ায় অনেক প্রাণীই আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনা তাদের জন্য যুক্ত হয়েছে আরেক ভয়াবহ হুমকি। এ উড়ালসেতু অন্তত কিছু প্রাণীকে সে বিপদ থেকে রক্ষা করবে বলে আশা করছেন বনকর্মীরা। তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও শুধু পাঁচটি সেতু দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে পুরো বনাঞ্চলজুড়ে পর্যাপ্তসংখ্যক উড়ালপথ তৈরি করলে প্রাণীকুলের জন্য সড়কটি আর মৃত্যুফাঁদ হয়ে থাকবে না।