নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আজ বুধবারের জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করেছেন কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে বিকেল পৌনে ৩টায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে পাঁচজন সচিবের সাথে কর্মচারীদের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর তারা একদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেন। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া সংস্কার উদ্যোগের বিরুদ্ধে থাকা আমলাদের অপসারণ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে গণসমাবেশ করেছে ‘জুলাই বিপ্লবী ছাত্র-জনতা’। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার পর সচিবালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে আবদুল গনি সড়কে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনে এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলার জন্য তিনিসহ কয়েকজন সচিবকে আজ মন্ত্রিপরিষদ সচিব দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ী তারা আন্দোলনকারীদের সাথে বসেছেন তাদের কথা শুনেছেন। তাদের দাবিগুলো আগামীকাল (বুধবার) মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানাবেন। এ অবস্থায় কর্মচারীরা আগামীকালের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা সচিবালয়ে কাজ করি, আমাদের আচরণ আইন বিধি অনুসরণ করে হওয়া উচিত। সচিবালয়ে আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন নেই, আপনাদের কোনো কিছু বলার থাকলে আমাদের কাছে আসবেন কথা বলবেন। আপনারা, আমরা আলাদা কেউ নই। আপনাদের ছাড়া আমরা কাজ করতে পারব না। গণ-অভ্যুত্থানের পরের বাংলাদেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। এই দেশকে আমরা সবাই মিলে গড়ব।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সমন্বয়ক মো: নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ পুনর্মূল্যায়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভূমিসচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এ কমিটির সভাপতি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, যুব ও ক্রীড়া সচিব মো: মাহবুব-উল-আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব আলেয়া মেহের এবং লেজেসলেটিভ বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।
এ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া সংস্কার উদ্যোগের বিরুদ্ধে থাকা আমলাদের অপসারণ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে গণসমাবেশ করেছে ‘জুলাই বিপ্লবী ছাত্র-জনতা’। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর সচিবালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে আবদুল গনি সড়কে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনে এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গণসমাবেশে ‘আমলাদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘সচিবদের জমিদারি, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ফ্যাসিস্টদের ঠিকানা, সচিবালয়ে হবে না’, ‘আওয়ামী লীগের দোসররা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘শেখ হাসিনার দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ প্রভৃতি স্লোগান দেয়া হয়।
গণসমাবেশে সংস্কারবিরোধী সচিব ও আমলাদের অপসারণ এবং ফ্যাসিস্টদের সাথে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপসারণ করার দাবি জানানো হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আরিফ সোহেলের নেতৃত্বে এই গণসমাবেশে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আরিফ সোহেল বলেন, সচিবালয়ে যেসব সচিব ও আমলা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে এবং সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে, আমরা তাদের অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। চাকরিবিধি নিয়ে আন্দোলন করা সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসর আমলাদের অপসারণ করতে হবে।
সচিবালয়ে ঢুকতে পারেননি সাংবাদিকরা : এ দিকে কর্মচারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলেও সংবাদকর্মীদের ব্যাপারে কোনো আগাম নির্দেশনা ছিল না। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহের কাজে সচিবালয়ে গিয়ে ঢুকতে পারেননি। বেলা দেড়টার পর সাংবাদিকদের সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। ফলে সকাল ৯টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সাংবাদিকরা সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে রাস্তায় অবস্থান নেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
তারা বলেন, আগাম নোটিশ না দিয়ে সাংবাদিক প্রবেশ করতে না দেয়া কোনোভাবে উচিত নয়। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার সামনে একটি বাধা। সরকার বারবার এ ধরনের ভুল করছে। সচিবালয়ে কোনো ঘটনা ঘটলেই সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হয় না। এটি এক ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলেও সাংবাদিকদের এভাবে আটকে দেয়া হয়নি।



