হাঁস পালনে বদলে যাচ্ছে হাওরপাড়ের মানুষের জীবন

Printed Edition
হাঁস পালনে বদলে যাচ্ছে হাওরপাড়ের মানুষের জীবন
হাঁস পালনে বদলে যাচ্ছে হাওরপাড়ের মানুষের জীবন

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

একসময় হাওর-বিলের মাছই ছিল নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পশুখালী গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। বর্ষা শুরু হলেই জালসহ মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম নিয়ে হাওরে ছুটতেন গ্রামের মানুষ। মাছ ধরে বিক্রি করেই চলত অনেক পরিবারের সংসার। তবে সময়ের সাথে হাওর-বিলে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য কমে যাওয়ায় বদলে গেছে স্থানীয় মানুষের জীবিকার চিত্র। মাছ ধরার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন অনেক পরিবার হাঁস পালন করে ডিম বিক্রির মাধ্যমে সংসারের খরচ মেটাচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পশুখালী গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় হাঁসের খামার। কোনো কোনো পরিবার বাড়ির আঙিনায় আবার কেউ কেউ হাওরসংলগ্ন জলাশয়ের পাশে হাঁস পালন করছেন। পরিবারের সদস্যরাই করছেন হাঁসের পরিচর্যা, খাবার খাওয়ানো ও ডিম সংগ্রহের কাজ। প্রতিদিন সংগ্রহ করা ডিম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ আয় করছেন তারা। এতে মাছ ধরার পরিবর্তে তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অনেক পরিবারের সংসারে ফিরেছে কিছুটা সচ্ছলতা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও পশুখালীসহ আশপাশের হাওর-বিলে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। বর্ষাকালে মাছ ধরার জন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে হাওরে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে মাছের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছই এখন আগের মতো চোখে পড়ে না। ফলে মাছ ধরে আগের মতো আয় করাও সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় কেউ কেউ কৃষিকাজ, দিনমজুরি কিংবা অন্য পেশায় যুক্ত হলেও অনেক পরিবার হাঁস পালনকে বেছে নিয়েছে তাদের পরিবারে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে।

পশুখালী গ্রামের হাঁস পালনকারী আবু তাহের বলেন, ‘হাওরে মাছ আগের মতো নেই। মাছ ধরার ওপর নির্ভর করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। তাই হাঁস পালন শুরু করেছি। হাঁসের ডিম বিক্রি করে প্রতিদিন কিছু আয় হচ্ছে, যা সংসারের খরচ মেটাতে কাজে লাগছে।’

স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে হাঁসের খাবারের দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই এবং চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে খামারিদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, নিয়মিত টিকাদান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরো সম্প্রসারিত হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, হাঁস পালনের মাধ্যমে হাওরপাড়ের পরিবারগুলোর বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি হাওর-বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলজ প্রতিবেশ ও দেশীয় মাছের আবাসস্থল রক্ষায় সরকারিভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া উচিত। এতে পশুখালীসহ হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।