নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ রেলওয়েতে ভুয়া দরপত্র ও ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কেনার নামে রাষ্ট্রের ৩৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় শিগগিরই চার্জশিট জমা দেয়া হবে। চার্জশিট প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং কমিশনের অনুমোদন পেলেই তা আদালতে দাখিল করা হবে। একই সাথে আসামিদের মধ্যে কর্মরত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করার নোটিশ রেল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি), বর্তমান অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-রোলিং স্টক) প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুব চৌধুরী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসানসহ মোট ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি টাকা লুটপাটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি (মামলা নং-২৫) দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিদেশী বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে ‘ফরেন এনলিস্টমেন্ট’-এর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ফিজিবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট কমিটির সদস্য থাকা অবস্থায় আহমেদ মাহবুব চৌধুরী কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাই, বাজার মূল্যায়ন বা চাহিদার বিশ্লেষণ ছাড়াই কেনাকাটার পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। ‘রোলিং স্টক অপারেশন্স ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭৫টি মিটার-গেজ ও ৫০টি ব্রড-গেজ লাগেজ ভ্যান কেনার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) কৃত্রিমভাবে লাভজনক হিসেব দেখানো হয়েছিল, যার ফলে রাষ্ট্রের ৩৫৮ কোটি টাকার পূর্ণ অপচয় ও লোকসান হয়েছে।
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই চার্জশিট দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রেলওয়েতে বিভিন্ন অনিয়মের আরো কিছু অভিযোগ কমিশনের অনুসন্ধানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।



