আব্দুল হালীম
বর্তমানে অশ্লীলতার প্রচার ও প্রসার যেন এক ভয়াবহ সামাজিক মহামারী আকার ধারণ করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। ফেসবুক রিলস, টিকটক, ইউটিউব শর্টসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও খোলাখুলিভাবে অশ্লীল ও অনৈতিক কনট্যান্ট ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে শুধু তরুণ-যুবকরাই নয়, আমাদের কোমলমতি শিশুরাও ধীরে ধীরে নৈতিক অধঃপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
একটি শিশু যখন স্কুলে যাওয়ার আগেই অথবা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই অনলাইনে অশৈল্পিক দৃশ্য দেখে, তখন তার কোমল মন কিভাবে কলুষিত হয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের আগামী প্রজন্ম নীতি-নৈতিকতাবোধহীন, সংবেদনশীলতাহীন এক ভয়ঙ্কর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে, যা জাতির জন্য অশনি সঙ্কেত।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। অভিভাবকদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাদেরকে অবশ্যই সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার নজরদারিতে রাখতে হবে, সন্তানের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে এবং নিজেদের জীবনযাপন হতে হবে নিয়ন্ত্রিত ও আদর্শবান। একই সাথে সরকার ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোরালো আবেদন- সামাজিক মাধ্যম ও মিডিয়ায় অশ্লীলতার প্রচার বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই অশ্লীলতার ফিতনা থেকে হিফাজত করুন এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিকতাভিত্তিক সমাজ গঠনের তাওফিক দান করুন।
লেখক : আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ



