শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ‘ডেকোরাম’ না মেনে প্রধান প্রকৌশলীকে ‘বিশেষ অতিথি’ করায় সভা বয়কট করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। এর আগে সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভিসি ও প্রো-ভিসি। পরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসব আয়োজনে জাতীয়তাবাদী ফোরামের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি মো: সাজেদুল করিম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আহমদ কবির চৌধুরী, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো: জয়নাল ইসলাম চৌধুরী।
এ দিকে প্রধান প্রকৌশলীকে বিশেষ অতিথি করায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগেই জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অবহিত করেন। কিন্তু এর পরও প্রধান প্রকৌশলীকে অতিথি করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা বলছেন, প্রো-ভিসি নিজের স্বার্থ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেকোরাম’ (শিষ্টাচার) ভেঙে অতিথি করেছেন। এতে শিক্ষকদেরকে ‘অবমূল্যায়ন’ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা ‘বয়কট’ করেছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক নেতারা। সভা শুরুর আগেই তাদের কয়েকজন মিনি অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে যান।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহ আতিকুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ বছরের ইতিহাসে এরকম ডেকোরাম ভঙ্গ করে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। এ অনুষ্ঠানে সাধারণত ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা বা প্রক্টরকে অতিথি তালিকায় রাখা হয়। অনুষ্ঠানে একজন অফিসারকে বিশেষ অতিথি রাখায় বুধবারই আমরা ভিসি, প্রো-ভিসিকে বিষয়টি জানিয়ে বলেছিলাম। শিক্ষক সমাজের ডিগনিটি নষ্ট করে একজন অফিসারকে বিশেষ অতিথি রাখা হলে আমরা অনুষ্ঠানে যাবো না।
তিনি আরো বলেন, ওনারা আমাদের আশ্বস্ত করায় আমরা বৃহস্পতিবার সভায় অংশ নিতে যাই। গিয়ে এ পরিস্থিতি দেখায় আমরা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম সভা বয়কট করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সাজেদুল করিম বলেন, জাতীয় দিবস উপযাপন কমিটি ভিসি গঠন করেছে। কমিটি আলোচক হিসেবে কাকে রাখবে কাকে রাখবে না সেটা তাদের বিষয়। আমি কিছুই জানি না। তার পরও বুধবার আমাকে একজন শিক্ষক বিষয়টি অবগত করেন। তখন আমি সেই শিক্ষককে বলি তোমার পরামর্শটা কমিটির সদস্য সচিবকে বলো। আমিও তোমার বার্তাটা তাকে বলব যেন আমলে নেয়। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।



