প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে কুষ্টিয়ার তামাক চাষিদের উদ্বেগ

Printed Edition

প্রস্তাবিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর কিছু ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা। তাদের মতে, খসড়ায় থাকা কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তামাক খাতের সাথে যুক্ত কুষ্টিয়ার হাজার হাজার চাষির জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তামাক চাষিসহ সব অংশীজনের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদনের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার তামাক চাষিরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি অংশীজন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো পর্যন্ত কুষ্টিয়ার তামাক চাষিদের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। অথচ কুষ্টিয়া দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তামাক উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের অসংখ্য কৃষক তামাক চাষের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিবার, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করেন। কুষ্টিয়ায় তামাক চাষ শুধু একটি ফসল নয়, এটি এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত একটি জীবিকার ব্যবস্থা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দৌলতপুর উপজেলার আজিজুল হক, আব্দুল মান্নান, মো: রহমত আলী, মো: খোয়াজ হোসেন, বাদশা আলী, রানা, আশাদুল ইসলাম, মো: মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আশারত আলী, মিরপুর উপজেলার মো: জিয়াউর রহমান, রহুল, মো: আব্দুর রশিদ (আরজু), মুকতার, মো: সাইফুল ইসলাম, হাবিবুর, মো: রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ, ওয়াসিম, তারন, মো: এনামুল প্রমুখ।

চাষিদের মতে, প্রস্তাবিত খসড়ার কিছু ধারা বাস্তবতার সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে তামাকজাত দ্রব্যে প্রয়োজনীয় উপাদান নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করবে। এর ফলে বৈধ বাজার সঙ্কুুচিত হয়ে অবৈধ সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের প্রসার ঘটতে পারে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি তামাক চাষ ও ব্যবসার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে তামাক চাষিদের ওপর। তাছাড়া প্রস্তাবনা অনুসারে খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলে কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি করতে পারে। এ অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সাথে তামাকজাত পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

কুষ্টিয়া অঞ্চলের চাষিরা বলেছেন, তারা একটি কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পক্ষে। তবে সে আইন অবশ্যই দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সারা দেশের লাখ লাখ ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতার ও প্রান্তিক চাষির জীবনযাত্রার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত হতে হবে। বিজ্ঞপ্তি।