নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লব চলাকালে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তিন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ওসিসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই আর্জি জানায় প্রসিকিউশন।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন করা হয়। বিচারিক প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পে শুনানি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান মদিনা। এ সময় তার সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার মইনুল করিম, সহীদুল ইসলাম সরদার, জহিরুল আমিন ও তারেক আব্দুল্লাহ।
শুনানিতে মার্জিনা রায়হান মদিনা বলেন, দেশব্যাপী সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবে তৎকালীন গৌরীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ সাহা এবং গৌরীপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র রায় পারস্পরিক যোগসাজশে যৌথ সিদ্ধান্ত নেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের প্রাণঘাতী মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করান।
আবেদনে বলা হয়, আসামিদের নির্দেশে ও প্রত্য সহযোগিতায় মারণাস্ত্র (পিস্তল ও চায়না রাইফেল) দিয়ে চালানো গুলিতে তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হন এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হন। শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালে ওই হত্যাকাণ্ডের মুহূর্তের দু’টি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে মামলার অন্যতম আসামি এসআই শফিকুল আলমকে অত্যন্ত কাছ থেকে আন্দোলনকারীদের ল্য করে সরাসরি গুলি চালাতে দেখা যায়।
প্রসিকিউশন দল অভিযুক্তদের একক ও যৌথভাবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনালস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩-এর অধীন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন জানায়।
মামলার ৯ আসামির মধ্যে তিনজনকে গতকাল সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেনÑ এসআই শফিকুল আলম, এএসআই দেলোয়ার হোসেন এবং ডৌহাখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান ফকির। মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহা ও ওসি সুমন চন্দ্র রায়সহ বাকি ছয় আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আসামিপরে আইনজীবীরা শুনানি প্রস্তুতির জন্য সময়ের আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।



