নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থিতিশীল রয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব, কমেছে হাসপাতালের ভিড়। গত মার্চের পর থেকে যেমন অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে দিন-রাত ভিড় লেগেই থাকত, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। আগের মতো হাম আক্রান্ত শিশুর ভিড় হাসপাতালে নেই, আছে সীমিত আকারে। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। গত মার্চ থেকেই ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা অসুস্থ শিশুদের ভিড় লেগেই থাকত। হাম সন্দেহে অথবা হামে আক্রান্ত উভয় অবস্থায়ই মা-বাবা অথবা অভিভাবকরা ভিড় করতেন হাসপাতালে। এখন সেই অবস্থা আর নেই। হামের লক্ষণ নিয়েই এখন কেবল আসছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা: সাইফউল্লাহ মুন্সী নয়া দিগন্তকে বলেন, এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ছয় থেকে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে, এখন সেটি এক থেকে দুই শিশু মারা যাচ্ছে। সামনে আরো কমে যাবে, শিশুদের হামের টিকা দেয়ার পর থেকে এ উন্নতিটা লক্ষ করছি। তিনি বলেন, টিকা নেয়ার পর তিন সপ্তাহ অতিক্রম করলে শরীরে হামের জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তাহলে এখনো কেন শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে এক প্রশ্নে অধ্যাপক সাইফউল্লাহ মুন্সী বলেন, হার্ড ইমিউনিটি হয়ে থাকে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে। হয়তো কিছু শিশু এখনো টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। আমাদের কাছে খবর আসছে যে, এখনো কিছু কিছু শিশুকে নিয়ে অভিভাবকরা ছুটছেন টিকা কেন্দ্রে। বিভিন্ন কারণে তারা শিশুদের টিকা দিতে পারেননি।
টিকার পর শিশুর শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কি না তা কিভাবে জানা যাবে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃতীয় পক্ষ দিয়ে শিশুদের অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে হবে। হামের টিকা বিশ্বব্যাপী জিএভিআই বা গ্যাভি নামক বেনুভেলেন্ট সংস্থা সরবরাহ করে। ফলে টিকায় কোনো ধরনের ত্রুটি থাকার কথা নয়। তৃতীয় পক্ষ থেকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কি না তা দেখা উচিত।
শিশুদের আইসিইউ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা: আবু তালহা বলেন, টিকা দেয়ার পর থেকে সারা দেশেই হাম পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে হামে আক্রান্ত সংখ্যা জিরোতে নেমে আসার সম্ভাবনা আছে। তবে নির্দিষ্ট সময় পর পর নিয়ম করে হামের রুটিন টিকা দিয়ে যেতে হবে এবং চার বছর পর পর এই টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইন করতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। একই সাথে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন করতে হবে যেন তাদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। গত রোববার ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য সরকারিভাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে, এটা নিয়মিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের এক লাখ আইইউ ক্ষমতার একটি নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় এবং ১২ থেকে ৫৯ মাসের শিশুদের দুই লাখ আইইউ ক্ষমতার একটি লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, কোনো শিশু ভিটামিন এ খেতে না পারলে তারা যেন নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন এ খাইয়ে নিয়ে আসেন। এটি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।



