নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা
শেরপুরের নালিতাবাড়ী খাদ্য গুদামে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ধান-চাল সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই ধান-চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে দুই হাজার ৮২৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগ্রহ কার্যক্রমের শুরুতেই ফরিয়াদের কাছ থেকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুদামে ধান রাখার জায়গার সংকটের কথা বলে এসব ধান নি¤œমানের অবস্থায় সরাসরি নালিতাবাড়ীর তিনটি ও শেরপুরের একটি মিলে পাঠানো হয়েছে। এতে সরকারি মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তারা প্রতি মণে প্রায় ৪০০ টাকা করে অনৈতিকভাবে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, প্রায় ২০০ মেট্রিক টন ধানের ডিএসসি নথিতে প্রকৃত কৃষকদের স্বাক্ষর নেই। সেখানে গুদাম কর্মকর্তাদের লোকজনের মাধ্যমে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় একটি মিল মালিক সমিতির সভাপতির সহযোগিতায় গুদামে ধান সরবরাহ না করে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে গুদামে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
কলসপাড় ইউনিয়নের কৃষক শাহজাহান বলেন, সরকারি গুদামে ধান দেয়ার জন্য কয়েক দিন চেষ্টা করেও তিনি তা পারেননি। তার মতো আরো অনেক কৃষক ধান নিয়ে ফিরে গেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নালিতাবাড়ী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকশানা বেগমের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কার্যালয়ে গিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নালিতাবাড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এন এম রফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা সঠিকভাবেই ধান-চাল সংগ্রহ করছি। অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়।’



