খুলনার দাকোপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৪ গ্রাম প্লাবিত

Printed Edition

খুলনা ব্যুরো

খুলনার দাকোপ উপজেলায় জোয়ারের তোড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতে পাউবোর অবহেলাকে দায়ী করে গোটা ইউনিয়ন ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যান।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকী নদীর জোয়ারের পানির চাপে দাকোপের ৩০ নম্বর পোল্ডারের অধীন তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া হরিসভা মন্দির এলাকার আনুমানিক ২ শ’ ফুট ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। ফলে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর কামিনীবাসিয়া, বটবুনিয়া, নিশানখালী ও আড়াখালী গ্রাম তলিয়ে যায়। ভেসে যায় ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর ও তিন হাজার বিঘা আমন ফসলের খেত। দ্রুত বাঁধ আটকাতে না পারলে দক্ষিণ কামিনীবাসিয়া, ভাদলা বুনিয়া, মশামারী, গড়খালী ও কাকড়াবুনিয়াসহ প্রায় গোটা তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ভোর বেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আরো বেশি তৎপর হয়ে ২টা বালির টিউব দিয়ে চাপান দিলে বাঁধটি আটকানো সম্ভব হত। কিন্তু তারা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পাউবোর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেখা যায়, তবে উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। এ ছাড়া দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমত হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার ভাঙন এলাকায় উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী অফিসার আসমত হোসেন বলেন, আশা করছি রাতের মধ্যে বাঁধ আটকাতে পারবো। বালির টিউবসহ অন্যান্য সামগ্রী প্রস্তুত রাখা আছে।

পাউবো সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার চিড়া, গুড় এবং রান্নার জন্য চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। বিকেল নাগাদ ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবারগুলোকে অনুরূপ সহযোগিতা করা হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ বেড়িবাঁধের ওই অংশটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পাউবো সময় মতো কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।