ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে : রিজভী

Printed Edition

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ, যেদিন জনগণের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিয়ে দেশটি দ্বিমুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ‘গ্যালারি হামিদুজ্জামান’ ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণœ করে ক্ষমতায় ছিল। ওই সময়ে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং শিশুরাও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। কিন্তু জনগণের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ একসময় বিস্ফোরিত হয়, যা সরকার উপলব্ধি করতে পারেনি।

তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে হিটলার ও মুসোলিনির মতো শাসকদের সাথে শেখ হাসিনাকে তুলনা করা হলেও তার শাসনামলের বৈশিষ্ট্য ছিল রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন, অর্থ পাচার এবং আত্মীয়স্বজনকে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা। এ কারণে ইতিহাসে শেখ হাসিনা ‘নিকৃষ্টতম ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে একটি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল, এটি একটি বেসরকারি আয়োজন হওয়ায় তাদের কিছু করার নেই। এটা ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির পরিচায়ক।

তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি বিষয়ে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে আসতে চাইলে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে তিনি দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও ভারত সরকার অনুমতি দেয়নি। অথচ বর্তমানে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা একসময় বলেছিলেন ভারতকে তিনি এমন কিছু দিয়েছেন, যা দেশটি দীর্ঘদিন মনে রাখবে। ভারতের বর্তমান অবস্থান সেই বক্তব্যেরই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তন এনেছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো ও তাদের আকাক্সক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্ব।