এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে প্রচারণায় যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রা। প্রচলিত মাইকিং ও পথসভার বাইরে গিয়ে এবার নাচ-গানকে হাতিয়ার করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গানে গানে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।
সরেজমিন দেখা গেছে, হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা মহল্লার অলিগলিতে মাইকে ভেসে আসছে প্রার্থীদের নির্বাচনী গান। পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে থিম সং। কোথাও জনপ্রিয় গানের সুরে নতুন কথা, আবার কোথাও একেবারে মৌলিক গানের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা চলছে। এসব গানে উঠে আসছে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জীবন, দলীয় আদর্শ ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ধরনের প্রচারণা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেক তরুণ-তরুণী ও শিশুরা প্রার্থীদের গান মুখে মুখে গাইছে। হাটবাজারের আড্ডায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বড় অংশজুড়ে থাকছে এসব নির্বাচনী গান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে গানভিত্তিক প্রচারণা ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতির একটি স্থায়ী অনুষঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।
চট্টগ্রাম-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল গান কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তার ভাষ্য, লিফলেট বা পোস্টারের চেয়ে গান সহজেই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। এ কারণে তিনি একাধিক প্রচারমূলক গান ব্যবহার করছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় তরুণ ভোটার আব্দুল কাদের বলেন, ফেসবুকে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর গান চোখে পড়ে। মজা করে শুনলেও প্রার্থীর পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে কলেজ শিক্ষার্থী রিদওয়ান হাসান মনে করেন, গান ভালো লাগলেও ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর বাস্তব কাজ ও প্রতিশ্রুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ধানের শীষের প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, নির্বাচনী গান এখন প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। গান মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও সচেতনতা তৈরি করে এবং তরুণ প্রজন্ম দ্রুত বার্তা গ্রহণ করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সোমাইয়া আক্তার জানান, ডিজিটাল প্রচারণাও নির্বাচনী আচরণবিধির আওতায় রয়েছে। কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিধি লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



