রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জরুরি আইন জারি করে বিদ্রোহে উসকানি দেয়ার মূল পরিকল্পক ছিলেন অভিযোগ করে তার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন দেশটির বিশেষ কৌঁসুলি। প্রায় তিন দশকের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি।
গত মঙ্গলবার রাতে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সমাপনী যুক্তিতর্কে এক কৌঁসুলি বলেন, ইউনকে ক্ষমতায় রাখতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে করা একটি ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা, এর পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইউন ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হাইউন। ‘ইউন দাবি করেছেন, তিনি জরুরি মার্শাল ল জারি করেছিলেন উদারবাদী গণতন্ত্রকে রক্ষায়; কিন্তু তার অসাংবিধানিক ও বেআইনি মার্শাল ল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে খর্ব করেছে, আদতে উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক শৃঙ্খলাকে ধ্বংস করেছে।
‘অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই অপরাধের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্তও হননি কিংবা জনগণের কাছে ঠিকঠাক ক্ষমাও চাননি,’ সমাপনী যুক্তিতর্কে বলেন কৌঁসুলি। তার মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার সময় ইউনকে মাথা নাড়তে দেখা গেছে, তিনি মুচকি হেসেছিলেন বলেও মনে হয়েছে। এ সময় আদালতকক্ষে থাকা তার সমর্থকদের কাউকে কাউকে জোরে হেসে উঠতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বিদ্রƒপাত্মক মন্তব্যও করেন। বাধ্য হয় বিচারক সবাইকে শান্ত হতে আহ্বান জানান।
ইউনের সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও তা পুরো দক্ষিণ কোরিয়াকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছিল। এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম এ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মিত্র এবং দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম টেকসই গণতন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৬৫ বছর বয়সী ইউন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আদালতের মতো বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকেও তিনি বলেছেন, ‘দেশের ক্ষতি করার অশুভ কার্যকলাপ রুখে দিতেই’ তিনি মার্শাল ল বা জরুরি আইন জারি করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে সামরিক আইন জারির ক্ষমতা তার এখতিয়ারের মধ্যেই ছিল; বিরোধী দলগুলো যে সরকারের কাজে বাধা দিচ্ছে সে বিষয়ে সতর্ক করতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, বলছেন ইউন। এ মামলায় আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষিত হওয়ার কথা। দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতগুলোতে কৌঁসুলিরা যা চান, রায়ে অনেক সময়ই তার প্রতিফলন দেখা যায় না। ১৯৯৫-৯৬ সালে আগের কিছু মামলায় বিদ্রোহে উসকানি দেয়ার অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট চুন দু-হোয়ান ও রোহ তায়ে-উ’র মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছিলেন কৌঁসুলিরা। নিম্ন আদালত চুনকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও রোহকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। পরে আপিল আদালতে ওই রায় বদলে যায়। থচুনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন, রোহের কারাদণ্ড কমিয়ে করা হয় ১৭ বছরের। দু’জনই দুই বছর করে জেল খাটার পর প্রেসিডেন্টের ক্ষমায় ছাড়া পান। দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বশেষ ২০১৬ সালে একটি মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হলেও ১৯৯৭ সালের পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। গত বছর ইউন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্বাচিত হওয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিচার বিভাগ আইন, নীতি ও সমাজের মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে রায় দেবে বলেই তাদের বিশ্বাস।’



