হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতকে চিঠি দেয়া হয়েছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকরের জন্য গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত পাঠাতে ভারতকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি দেয়া হয়।

গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। এই রায় কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজনকে ফেরত চেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা শুরু হলে গত ডিসেম্বরে পলাতক আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভারত এতে সাড়া দেয়নি।

এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, এর আগে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল, তার জবাব আসেনি। তবে এখন পরিস্থিতি আরেক রকম। আদালত কর্তৃক শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতের সাথে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজনকে ফেরত চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার দিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পতিত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে।