মোহনগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন সেতু ও নদীর পাড় হুমকিতে

Printed Edition
ব্রিজের পিলারের কাছে বসানো ড্রেজার মেশিন  : নয়া দিগন্ত
ব্রিজের পিলারের কাছে বসানো ড্রেজার মেশিন : নয়া দিগন্ত

মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে মাসুম (৩৫) নামে এক ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযুক্ত মাসুম তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক দলের সভাপতি এবং উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গত শনিবার উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের গজধার এলাকার নৌকাভাঙা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাছে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গজধার ও ধুলিয়া গ্রামের সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। ওই সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের জন্য মাসুম সেতুর পিলারের খুব কাছাকাছি ‘বাংলা ড্রেজার’ বসিয়ে বালু উত্তোলন করছিলেন। শুক্রবার থেকে এ কার্যক্রম চলমান ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নীল প্লাস্টিকের ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ভাসমান ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছিল। এতে সেতুর পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হয় এবং নদীপাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করলে তারা বালু উত্তোলনে বাধা দেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার মালিক মাসুমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে ড্রেজারটি ধ্বংস করা সম্ভব না হলেও তা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার শর্তে মুচলেকা নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনের জন্য ড্রেজারটি সেতুর খুবই কাছে বসানো হয়েছিল, যা সেতুর স্থায়িত্ব ও নদীর পাড়ের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।