রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন নেই। বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়েছে, অথচ স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধের অভাব। এ কারণে সাপে কাটা রোগীদের নিয়ে যেতে হয় রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ দূরবর্তী হাসপাতালে। এতে রোগীর ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে প্রাণহানি।
কায়েতপাড়া-নগরপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তার ছেলেকে সাপে কামড়ালে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়; কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ‘এখানে অ্যান্টিভেনম নেই, দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।’ দুলু মিয়া, মমিন আলীসহ বহু রোগীর স্বজনও একই অভিযোগ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক দশকে (২০১৬-২০২৬) রূপগঞ্জে সাপের কামড়ে কমপক্ষে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী কায়েতপাড়া, মিঠাবো, হাটাবো, কামশাইর, পূর্বাচল, দাউদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের জুনে মুক্তিশপুরের কবির হোসেন, জুলাইয়ে শাকিল মিয়া ও জাকির হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে সাপের কামড়ে। এ ছাড়া শিশু তামিম মিয়া, তামিম হাসান ও শাহীদা বেগমও প্রাণ হারিয়েছেন।
জানা গেছে, একটি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশনের মূল্য এক হাজার ৪০০ টাকা। আর একজন রোগীকে কমপক্ষে ১০টি ইনজেকশন দিতে হয়। গরিব রোগীদের পক্ষে এত টাকা বহন করা প্রায় অসম্ভব।
রূপগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: সজল কুমার বলেন, ‘সাপের বিস্তার পরিবেশগত বিপর্যয়, শিকারি প্রাণী বিলুপ্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি। জলাশয় ভরাট ও ঝোপঝাড় বাড়ায় সাপের উপদ্রব আরো বেড়েছে।’



