ক্রীড়া ডেস্ক
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে প্রথমার্ধে বল পজিশন ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না সুইজারল্যান্ড। অবশেষে ৭৪ মিনিটে প্রথম জাল খুঁজে পেল সবশেষ ১৯৫৪ আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা দলটি। এরপর আরো দু’বার জালের দেখা। মাঠে একটি গোল শোধ বসনিয়ার। দারুণ পারফরম্যান্সে যোগ করা সময়ের পেনাল্টি গোলে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে বলকান উপদ্বীপের দেশটির হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’তে নকআউটে ওঠার সম্ভবনায় বড় এক ধাপ পেরিয়ে গেল সুইজারল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গতকাল প্রথমার্থ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এক সাথে তিনটি পরিবর্তন আনলেন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। দারুণভাবে কাজে লাগল এই সিদ্ধান্ত। ওই তিন বদলির সিদ্ধান্ত দারুণভাবে কাজে লাগাল সুইস ফুটবলাররা। বদলি নামা জোহান মানজাম্বি করলেন দুই গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বদলি নেমে জোড়া গোল করার কীর্তি গড়লেন মানজাম্বি (২০ বছর ২৪৭ দিন)। বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও তিনি। দলের হয়ে আরেক বদলি নামা রোবেন ভার্গাসের পা থেকে এলো একটি গোল। অপর গোলদাতা গ্রানিথ জাকা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার হয়ে একটি গোল শোধ করেন এরমিন মাহমিচ।
ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পাচ্ছিল না। ৭৪ মিনিটে হলো প্রথম গোল। আর সব মিলে ৫ গোলের তিনটিই হয়েছে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিট থেকে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিট পর্যন্ত। প্রথম ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ১-১ ড্র করেছিল সুইজারল্যান্ড। কানাডার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়ে ১-১ ড্র করেছিল বসনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে প্রায় ৭০ শতাংশ বল দখলে রাখলেও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের পরীক্ষা খুব একটা নিতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। বসনিয়াও পারেনি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। দুই দলেরই কেবল একটি করে লক্ষ্যে ছিল শট।
৫৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সুযোগ পায় সুইসরা। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে এনদোয়ের ওভারহেড কিক লক্ষ্যেই ছিল, দারুণ রিফ্লেক্সে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান বসনিয়া গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল। সাত মিনিট পর আরেকটি দারুণ সেভ করেন তিনি। কর্নারে কাছ থেকে ব্রিল এমবোলোর প্রচেষ্টা চমৎকারভাবে রুখে দেন ৩০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ৭৪ মিনিটে আর পারেননি তিনি। বক্সে বসনিয়ার এক ডিফেন্ডার হেডে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল পেয়ে জোরাল সাইড ভলিতে জালে পাঠান ৭১ মিনিটে বদলি নামা মানজাম্বি।
প্রথম গোল হজম করার ৬ মিনিট পর আরেক ধাক্কা খায় বসনিয়া। বক্সের বাইরে এমবোলোকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দলটির ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ। চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভার্গাস। এমবোলোর পাস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে ডান পায়ের শটে গোলটি করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ভার্গাসের পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মানজাম্বি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বসনিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ করেন বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে মাহমিচ। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে জিব্রিল সো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সুইসরা। আর সফল স্পট কিকে তিন গোলের লিড পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন জাকা।



