জুলাইয়ের চেতনায় রাষ্ট্র ও সমাজের স্থায়ী কাঠামো তৈরি করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

Printed Edition
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ‘মুখ ও মুখোশ’ (১৯৫৬) চলচ্চিত্র শিল্পের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন : নয়া দিগন্ত
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ‘মুখ ও মুখোশ’ (১৯৫৬) চলচ্চিত্র শিল্পের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন : নয়া দিগন্ত

বাসস

বারবার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও সঙ্ঘাতের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘বারবার সঙ্ঘাত ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাওয়া আত্মসন্তুষ্টির বিষয় নয় বরং এক নির্মম বাধ্যবাধকতা। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে এই সঙ্ঘাতময় পরিবেশ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোতে ন্যূনতম এমন এক জনমতের পাটাতন বা কাঠামো তৈরি করতে হবে, যার নিচে আর কেউ যেন নামতে না পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে বুয়েট শিক্ষক সমিতি আয়োজিত ‘মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে স্মরণ-আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী লড়াই, পাকিস্তান আমল, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরে সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, আমাদের ইতিহাস কেবলই রূপান্তর ও বিদায়ের ইতিহাস। আমরা এখনো এমন একটি স্থায়ী ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করতে পারিনি, যা মানুষের মেধা, যোগ্যতা ও বিকাশকে নিশ্চিত করে।’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দেশে এ পর্যন্ত ১৩টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষটি ছিল সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। তারপরও আমরা এখনো বলতে পারছি না যে আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থা বা বিচার বিভাগ একটি কাক্সিক্ষত ও স্থায়ী কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েছে। এই রক্তদানের বিনিময়ে যদি জবাবদিহিমূলক ও সুদৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে না পারি, তবে ভাবতে হবে আমাদের সার্বিক ব্যবস্থার ডিএনএতেই মৌলিক ত্রুটি রয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে বহুগুণী ও মেধাবী মানুষকে দেশ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। এই ত্রুটি দূর করে নতুন প্রজন্মের জন্য বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কেবল শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নন; তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শকও। পাঠ্যক্রমের বাইরে নৈতিক শিক্ষা প্রদান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়া আপনাদের বড় সামাজিক দায়িত্ব।’

বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

সভায় আরো বক্তব্য দেন বুয়েটের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল জলিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।