চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরীর সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাথে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজ। এ লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার নগরীর একটি হোটেলে চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো: জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এ টি এম তরিকুল ইসলাম, ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজের এমডি ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এ উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে, তবে তারা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারী পক্ষ নয়।
তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের আওতায় এ তিনটি পক্ষ যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে এ কাজের পাইলটিং হিসেবে ধরা হয়েছে। এ দু’টি ওয়ার্ড অর্থমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার অধিভুক্ত। এ দু’টি ওয়ার্ডে বর্তমানে ওয়াসার পানি সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে সুপেয় ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো সরকারের সেবা নয়; দায়িত্ব। তবে সরকারের একার পক্ষে সব সময় সব জনগণের পানির চাহিদা পূরণ করা কঠিন। তাই তো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এসব কাজে নিয়োজিত করা। এর ফলে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে, জনচাহিদা পূরণ ও উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হয়।
নিজ সংসদীয় এলাকার দু’টি ওয়ার্ডে পাইলটিং প্রকল্প নেয়ায় তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোস্যাল এন্টারপ্রাইজকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, এটি এ ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা যেটি দেশের পানি সরবরাহ খাতের জন্য একটি নতুন বেঞ্চমার্কের সূচনা করেছে।
নেদারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এবং বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন, দু’টি ওয়ার্ডের অধিবাসীদের পক্ষে অর্থমন্ত্রীর ছেলে ইসরাফিল খসরু অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের ঘোষণা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার দুপুরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে মন্ত্রীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন। একই সাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে বড় দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবিও তুলে ধরেন তারা।
জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
পরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।



