অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দখলে অগ্রণী ব্যাংক প্রশাসন

বরিশাল সার্কেল

Printed Edition

আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির বরিশাল সার্কেল যেন এক ‘নীরব দখলে’র কবলে। নামমাত্র বদলির নিয়ম থাকলেও ঘুরেফিরে একই মুখ, একই কর্মকর্তা, একই প্রভাব। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা দীর্ঘ দিন ধরে সার্কেল অফিসে থেকে গড়ে তুলেছেন এক অদৃশ্য ‘ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট’। এই সিন্ডিকেটের প্রভাবে নতুন কোনো জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) দায়িত্ব নিলেই তাকে ঘিরে শুরু হয় তদবির, বদলি ও কমিশন বাণিজ্যের জাল।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও দেবাশীষ কুণ্ডু, যাদের আওয়ামী রাজনীতির ঘনিষ্ঠ হিসেবেই চেনা হয়। দু’জনই বহু বছর ধরে বরিশাল সার্কেলে দায়িত্বে আছেন, যদিও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকা নিষিদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, তারা কৌশলে স্বল্প সময়ের জন্য অন্য শাখায় বদলি হয়ে আবার সার্কেল অফিসে ফিরে আসেন। এভাবেই তারা টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রভাব বিস্তার করছেন।

এই সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন আরো কয়েকজন কর্মকর্তা, পংকজ কুমার নাথ, আজিজুর রহমান, আবু তাহের ও রাশেদুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শাখা ব্যবস্থাপক বানানো থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই তদবির ও অর্থ লেনদেন চলছে প্রকাশ্যেই। এতে বহু সৎ কর্মকর্তা হয়রানি ও অনিচ্ছাকৃত বদলির শিকার হচ্ছেন।

অগ্রণী ব্যাংকের বর্তমান জিএম জাহিদ ইকবাল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা যতই প্রভাবশালী হোক, অফিসে আমার কাজে কোনো বাধা দেয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বদলির প্রক্রিয়াও চলমান।’

তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরে অনেকে বলছেন, বিষয়টি এত সহজ নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও রাজনৈতিক আনুগত্যের জোরে এই কর্মকর্তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে ব্যাংকের প্রশাসন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেবাগ্রহীতারা। বরিশালের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফেরাতে এখন প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত ও প্রশাসনিক সংস্কার, এমন মত সংশ্লিষ্ট মহলের।