তিন জেলায় ব্যবসায়ীসহ ৩ জনকে হত্যা

বাগেরহাটে ভ্যান চালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক ব্যবসায়ীসহ তিন জেলায় তিনজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া বাগেরহাটে এক ভ্যান চালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ব্যাবসায়ীকে হাত-পা-গলা কেটে নির্মমভাবে খুন করেছে প্রতিপক্ষ! নিহত ব্যবসায়ীর দেহকে কয়েক খণ্ড করেছে হত্যাকারীরা। এ সময়ে আরো দু’জনকে কুপিয়ে জখম করে তারা। ঘটনাস্থলেই হত্যাকারীরা উল্লাস করতে থাকে।

কাশিয়ানী উপজেলা সদরের অদূরে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বড়ভাগ গ্রামের মৃত-ছত্তার শেখের ছেলে মো: রবিউল ইসলাম রবি কাশিয়ানী বাজারে নিজের চায়ের দোকান বন্ধ করে একটি ভ্যানযোগে পাঁচজন মিলে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিল। মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শত্রুরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তারা রবিকে খুন করে উল্লাস করতে থাকে এবং হাত-পা-গলা কেটে খণ্ড খণ্ড করে। হত্যাকারীরা এ সময়ে রবির সাথে থাকা মো: মোক্তার হোসেন শেখ (৫২) এবং মো: হৃদয় শেখকে (২৩) কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে। আহত মোক্তার শেখ এবং হৃদয়কে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পাকুন্দিয়া, (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পারিবারিক কলহ ও মাদকের টাকার জেরে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে রিয়াদ ওরফে গেন্দু (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মঠখোলা নামাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত রিয়াদ ও অভিযুক্ত হৃদয় উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চরদেওকান্দি গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ওরফে কালাচাঁনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই নিজের মা ও ভাইকে মারধর করতেন। কর্মসূত্রে বড় ভাই হৃদয় ঢাকায় বসবাস করলেও ঘটনার আগের দিন তিনি বাড়ি ফেরেন।

ঘটনার দিন নিহত রিয়াদ নেশার টাকা ও একটি নতুন মোবাইল ফোন কেনার জন্য তার মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি মাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় বড় ভাই হৃদয় প্রতিবাদ করলে রিয়াদ ধারালো ছুরি নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন। একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং রিয়াদ ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুকসুদপুর, (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ভালোবেসে বিয়ে করে স্বামীর হাতেই খুন হয়েছেন এক গৃহবধূ। পরে স্ত্রী মিম আক্তারের (২৩) লাশ ঘরে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী তরিক সিকদার। রোববার সকালে উপজেলার ভাবড়াশুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায়, প্রায় তিন বছর আগে সনাতনধর্মী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় শাকপাইলদিয়া গ্রামে সিদাম মাঝির মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ভাবড়াশুর গ্রামের ছরোয়ার সিকদারের ছেলে তরিক সিকদার। পরে তাকে ধর্মান্তরিত করে বিবাহ করে। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

রোববার সকালে দাম্পত্য কলহে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তরিক সিকদার তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে।

মুকসুদপুর সার্কেল এসপি নাফিজুর ইসলাম বলেন, মিম আক্তার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফকিরহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা হোচলা গ্রামে বসতঘর থেকে সুজন শেখ (২৩) নামের এক ভ্যানচালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার বেলা ১১টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি সে আত্মহত্যা করেছে। নিহত সুজন শেখ উপজেলা বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের হোচলা গ্রামের মৃত শেখ আবুল হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানান, রোববার ভোর রাতে স্ত্রী হোসনেআরা বেগম ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার স্বামী সুজন শেখ ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিল। তার ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

খবর পেয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: মমিনুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে আসেন। নিহতের স্ত্রী হোসনেআরা বেগম জানান, শনিবার তারা স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান একসাথে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। রাতের কোনো এক সময় তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কী কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটাতে পারে তা তিনি বলতে পারেননি।