বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় আদালতে মামলাধীন একটি বাড়ির তালা ভেঙে দখল নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপরে বিরুদ্ধে। এতে শতবর্ষী আমেনা বেগম (১১০) তার ষাটোর্ধ্ব মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত বুধবার এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার মহানন্দাগাছা গ্রামের মৃত সফর উদ্দিনের স্ত্রী আমেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, আমেনা বেগমের মেয়ে মনোয়ারা বেগম নিঃসন্তান হওয়ায় সাথী আক্তার লিপি নামে এক শিশুকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করেন এবং পরে তাকে পাবনার চাটমোহর এলাকায় বিয়ে দেন। পরবর্তীতে মনোয়ারা বেগম তার স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি করে মায়ের ভিটায় পাঁচতলা ফাউন্ডেশনসহ একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখানেই বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর আগে নাতনী লিপি চিকিৎসার কথা বলে আমেনা বেগমকে বনপাড়ায় নিয়ে গিয়ে গোপনে বাড়ির জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তিনি একই গ্রামের আব্বাস আলীর তিন ছেলে রেজাউল করিম, নাঈম ও নাহিদের কাছে জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে আমেনা বেগম আদালতে মামলা করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলাটি চলমান থাকলেও গত সোমবার আমেনা বেগমকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সুযোগে প্রতিপ বাড়ির তালা ভেঙে দখল করে নেয়। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মূল ফটকের সামনে পাটিতে শুয়ে আছেন শতবর্ষী আমেনা বেগম এবং পাশে বসে আছেন তার মেয়ে। বাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছেন দখলকারীরা।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে দেখি বাড়ি দখল হয়ে গেছে। মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা জোর করে ঘর দখল করেছে। এখন আমরা কোথায় যাব বুঝতে পারছি না।’ অভিযোগের বিষয়ে নাঈস হোসেন বলেন, ‘আমরা টাকা দিয়ে জমিসহ বাড়ি কিনেছি। তারা দখল না দেয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেরাই দখল নিয়েছি।’
বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



