এখনো রুচিশীলদের ভরসা দর্জিবাড়ি

ঈদ সামনে রেখে ফ্যাশন-সচেতন আর রুচিশীল ব্যক্তিরা ছুটছেন দর্জি বাড়িতে। আগেভাগেই নিজেদের পছন্দসই জামা-কাপড় বানিয়ে রাখছেন। চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতারাদের হাতে পোশাক তুলে দিতে তারা রাতদিন কাজ করছেন ।

আবুল কালাম
Printed Edition
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় একটি টেইলার্সে কারিগরদের ব্যস্ততা
রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় একটি টেইলার্সে কারিগরদের ব্যস্ততা |নয়া দিগন্ত

ঈদ ঘিরে দিন রাত কর্মব্যস্ত নির্ঘুম দর্জিবাড়ি। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে বিরতিহীন চলছে পোশাক সেলাইয়ের কাজ। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তালমেলাতে ফ্যাশনে নান্দনিকতার ছোঁয়া আনতে চাচ্ছে মানুষ। ফলে দিনবদলের সাথে দর্জিদের কদর কিছুটা কমলে পছন্দের পোশাক বানানোর জন্য রুচিশীলদের এখনো ভরসা দর্জিবাড়ি বা টেইলার্সগুলো।

একাধিক দর্জি ঘর ঘুরে দেখা যায়, তাদের সবাই ব্যস্ত সুই, সুতা আর কাঁচির কাজে। ক্রেতাদের পছন্দের পোশাকটি তৈরিতেই তাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা।

অন্য দিকে নিজের চাহিদা মতো ডিজাইনের পোশাক তৈরি নিতে অনেকের ভিড় ছিল। সেলোয়ার কামিজের পাশাপাশি নারীদের সাথে পুরুষেরাও পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও শার্ট অর্ডার করছিলেন। কেউ গজ-ফিতায় নিখুঁত মাপে কাপড় কাটছিলেন। আবার কেউ টুকরা করে রাখা কাপড় মেশিনে সেলাই করে রূপ দিচ্ছিলেন বাহারি পোশাকে।

কারিগররা জানান, ঈদ সামনে রেখে ফ্যাশন-সচেতন আর রুচিশীল ব্যক্তিরা ছুটছেন দর্জি বাড়িতে। আগেভাগেই নিজেদের পছন্দসই জামা-কাপড় বানিয়ে রাখছেন। চাঁদ রাতের আগেই ক্রেতারাদের হাতে পোশাক তুলে দিতে তারা রাতদিন কাজ করছেন ।

কারখানাগুলো ঘুরে দেখা যায়, একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ। পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা। ফরমায়েশ নেয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের।

তবে এর মধ্যেও ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দর্জিবাড়িতে। যেখানে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মজুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবিতে নকশার ভেদে মজুরি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। শার্ট-প্যান্টের মজুরি ৫২০ থেকে ৬৬০ টাকা। মেয়েদের সেলোয়ার-কামিজ বানাতে খরচ পড়ছে ৩৫০ থেকে ৮৫০ টাকা।

তবে বিভিন্ন নামিদামি টেইলার্সগুলো বিশেষ করে কাপড় বিক্রির পাশাপাশি যারা টেইলারিং সুবিধা দেয় সেগুলোতে ক্রেতা সমাগম একটু বেশি ।

দরজিপাড়া হিসেবে খ্যাত রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের রমনা ভবন, মৌচাক মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, রাজধানী সুপার মার্কেট, ফার্মগেট, নীলতে ও গাউসিয়া মার্কেটের ইসমাইল ম্যানশনসহ ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পোশাক কারিগরদের এক মুহূর্তের অবসর নেই। পুরান ঢাকার ঠাঁটারীবাজার, বংশালসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পাঞ্জাবি-পাজামার দোকানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

টেইলার্সে আসা কয়েকজন জানান, রেডিমেড পোশাক অনেকের শরীরে ভালো ফিট হয় না। তাই নিজেদের পছন্দমতো পোশাক বানাতে তাদের আসতে হচ্ছে দরজির দোকানে।

টেইলার্সের স্বত্বাধিকারীরা জানান, এবার তরুণেরা ফলো করছেন শাহরুখ, সাইফ, সালমান, অয় কুমার ও রণবীর কাপুর স্টাইলের বিভিন্ন শার্ট-প্যান্ট। পাশাপাশি বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের পোশাক ও কোচদের পোশাকের নকশা চাইছেন তরুণদের অনেকে।

আর তরুণীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ লং কামিজ। এ েেত্র ক্যাটরিনা, কারিনা, সোনাী সিনহা, শ্রদ্ধা কাপুর, দীপিকা পাড়ুকোন, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, সোনম কাপুর স্টাইলের বিভিন্ন ডিজানের পোশাকের চাহিদা বেশি। তবে এবার কারিগরদের মজুরি, দোকান ভাড়া, সুতা ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় পোশাক বানানোর মজুরি কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।