ক্রীড়া ডেস্ক
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সময়টা তেমন একটা ভালো যাচ্ছে না। একের পর এক সিনিয়র ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের ইনজুরিতে টি-২০ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দলটি ব্যাকফুটে। ইনজুুরিতে অধিনায়ক মিচেল মার্শের তৃতীয় ম্যাচেও খেলাও অনিশ্চিত। তার পরও দলটি অস্ট্রেলিয়া বলে কথা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্বাভাবিক শুরু করে অসিরা। তবে বিপত্তি বাধে দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে। এখন রীতিমতো জমে উঠেছে গ্রুপ ‘বি’। এ গ্রুপে এখন শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড- সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনায় রয়েছে চার দলেরই। তাই সুপার এইটে উঠতে হলে বাকি সবগুলো ম্যাচ জেতার পাশাপাশি নিট রান রেটসহ অনেক সমীকরণ মেলাতে হবে মিচেল মার্শের দলকে।
গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার বাকি আছে দুই ম্যাচ। আর এই দুই ম্যাচেই যদি জয় পায় তারা, তবে পয়েন্ট হবে ৬। এ দিকে শ্রীলঙ্কা যদি জিম্বাবুয়েকে হারায় আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে জয় পায়, তাহলে এই তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৬। সে ক্ষেত্রে সুপার এইটের ফয়সালা হবে নিট রান রেটের মাধ্যমে। এ ধরনের নানা সমীকরণ মাথায় নিয়ে অসিরা আজ পাল্লেকেলেতে মুখোমুখি হচ্ছে আয়োজক শ্রীলঙ্কার।
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মার্শ বলেন, ‘এখনই ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হারের পর চাপের মুখে রয়েছি আমরা। শেষ ম্যাচে আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। তবে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য বড় সুযোগ। দল হিসেবে আমরা আত্মবিশ্বাস হারাইনি। ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। ম্যাচটি কার্যত নকআউটের মতো।’
এ দিকে স্বস্তির খবর হলো দলে যোগ দিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ফিরেছেন টিম ডেভিড। পাশাপাশি বাঁ হাতে আঘাত লাগলেও পরীক্ষায় বড় কোনো ক্ষতি ধরা পড়েনি অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসের।
অন্য দিকে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা রয়েছে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলেই তারা নিশ্চিতভাবে সুপার এইটে উঠে যাবে। স্বাগতিকদের শক্তি তাদের স্পিন আক্রমণ ও সাম্প্রতিক ফর্ম। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে দ্রুত উইকেট তুলে নেয়ার ক্ষমতা তাদের বড় অস্ত্র। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে অবদান রাখার পরও ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন দলের প্রধান স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। শ্রীলঙ্কাকে অনেকটাই নির্ভর করতে হবে মাহিশ থিকসেনার ওপর। ঘরের মাঠে ওমান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন বাঁ হাতি স্পিনার দুনিথ ওয়াল্লালাগেও। সব মিলে এগিয়ে থাকার পরও দ্বীপ রাষ্ট্রটির অধিনায়ক দাসুন শানাকা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। তারা সবসময়ই বড় ম্যাচের দল। তাদের হারানো সহজ নয়। আমরা জানি, একটি জয় আমাদের সুপার এইট নিশ্চিত করবে; কিন্তু আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। পরিস্থিতি আমাদের সহায়ক হতে পারে, তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই আসল।’



