দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রফতানি স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ চীন এখনই ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি ক্রয় বাড়াবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে যুদ্ধকালীন আটকে থাকা চীনগামী বিপুলসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু করবে, যা দেশটির তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে আরো বাড়িয়ে দেবে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ যখন তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে ভুগছে, তখন বেইজিং রয়েছে সম্পূর্ণ সুবিধাজনক অবস্থানে।
বর্তমানে চীনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রায় পূর্ণ। এমনকি সঙ্কটকালীন এই সময়ে বেইজিংকে তাদের বিশাল কৌশলগত মজুদ থেকে কোনো তেল উত্তোলনই করতে হয়নি। পাশাপাশি দেশটির শোধনাগারগুলোর সংরক্ষণাগারও পেট্রল, ডিজেল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে। মূলত যুদ্ধ চলাকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া মূল্যের কারণে চীন তাদের দৈনিক তেল আমদানি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এনেছিল, যা বৈশ্বিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকার সুযোগে এবং জাতীয় আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ করার কারণেই বেইজিং এমন কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। তা ছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বৈদেশিক সম্পদ জব্দ করায় চীন বিদেশী ব্যাংক আমানত বা মার্কিন সরকারি ঋণপত্রে অর্থ রাখার চেয়ে তেলের মতো পণ্যভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগে বেশি গুরুত্ব দেয়।



