বেশি তাপমাত্রা জুন ও জুলাইয়ে : বছরটি হতে পারে উষ্ণতম

হামিম উল কবির
Printed Edition

জুন ও জুলাই মৌসুমে স্থলভাগের তাপমাত্রা প্রায় সর্বত্রই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে ২০২৬ সালে একটি শক্তিশালী এমনকি সুপার এন নিনোর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আগাম পূর্বাভাস দিয়ে রাখছেন। একই রকম পূর্বাভাস বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) দিয়েছে যদিও সংস্থাটি সুপার এল নিনো ট্রার্ম ব্যবহার করে না। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী এই বছরটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে স্থান করে নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্ট্যাট ইউনিভার্সিটির এডজাঙ্কট প্রফেসরও বৈশ্বিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. রাশেদ চৌধুরী বলছেন, এমন ঘটনা ঘটলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, মাছের সামগ্রিক উৎপাদনে এবং কৃষিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা বলছেন, এল নিনোর ঘটনা ঘটলে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এবং ব্রাজিলে খরার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর ঘটনা ঘটলে উষ্ণ অবস্থা হয় এবং বিপরীত হলো লা নিনা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এল নিনো বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনকে প্রভাবিত করে এবং সাধারণত বৈশ্বিক জলবায়ুকে উষ্ণ করে থাকে। ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সাথে মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব রাখে এবং ২০২৪ সালটি ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর। জলবায়ু পরিবর্তনে এল নিনো সংশ্লিষ্ট প্রভাবকগুলোকে তীব্রতর করতে পারে, কারণ উষ্ণ সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়া (যেমন তাপপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত) সৃষ্টির জন্য বেশি শক্তি ও আর্দ্রতা সরবরাহ করে। প্রতিটি এল নিনো ঘটনা তার বিকাশ, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং প্রভাবের দিক থেকে আলাদা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, এল নিনো দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশ, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে বেশি বৃষ্টিপাতে প্রভাব বিস্তার করে। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরার ঘটনা ঘটায়। গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সমুদ্রের উষ্ণ পানি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় সংঘটনে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু একই সময়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় গঠনে বাধার সৃষ্টি করে।

বৈশ্বিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. রাশেদ চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত চলতি বছর বেশির ভাগ আলোচনা এল নিনোকে কেন্দ্র করে হলেও পূর্ব প্রশান্ত মহাসগারীয় এল নিনো (ইপিই) এবং মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় এল নিনো (সিপিই) নিয়ে কোনো সমন্বিত বিশ্লেষণ করা হয়নি। এ দুই ধরনের ঘটনা (ইপিই ও সিপিই) বাংলাদেশের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। সে কারণে আসন্ন এল নিনোর প্রভাবের পুর্বাভাসে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। রাশেদ চৌধুরী বলেন, ২০২৬ সালের ঘটনাটিকে এখনই স্পষ্ট করে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অথবা মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করাটা খুবই তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। তবে প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো বলছে, এটি শক্তিশালী হলে সাধারণত একটি বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে বা পূর্বমুখী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রচলিত মধ্য প্রশান্ত মহাসগারীয় এল নিনো (এল নিনো মডোকি) ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, লক্ষণীয় যে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় এল নিনো ঘটলে সাধারণত বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শুষ্কতা দেখা যায়। অপর দিকে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় এল নিনোর ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কাছাকাছি বা বেশি হতে পারে।