সিলেটে ব্যবসায়ী দম্পতিসহ ৩ জন খুন, ঘাতক আটক

সিলেট ব্যুরো
Printed Edition
  • মামলার শুনানির আগে হত্যাকে ঘিরে রহস্য
  • ঘটনার সময় বন্ধ ছিল সিসি ক্যামেরা

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, সকালে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশের পর তাহমিনার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া এগিয়ে এলে বাবুল তাকে এবং পরে তার স্বামী এম এ সাত্তারকে হত্যা করে।

তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাসার সামনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি পরিত্যক্ত এলাকায় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বুধবার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীর ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা এবং তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডাকাতি, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক শত্রুতা- এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত চলছে। একই সাথে সাত্তারের একটি সম্পত্তি নিয়ে চলমান মামলার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলের কপিও উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই ও সিআইডির সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার মিতালী ১১১ নিকুঞ্জ ভিলার তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় থাকতেন সাত্তার ও তার স্ত্রী। তাদের সাথে থাকতেন গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। গত কোরবানির ঈদের পর তিনি ওই বাসায় কাজ শুরু করেন। নিহত দম্পতির চার সন্তান যুক্তরাষ্ট্র

ও যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ঘটনাস্থলে দেয়াল ও বাথরুমের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখা গেছে। সাত্তারের কক্ষের তিনটি ওয়ারড্রোব তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। সুরতহাল প্রতিবেদনেও তিনজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ ছিল। তবে বিদ্যুৎ যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

সাত্তারের আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক জানান, রিকাবীবাজারে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা ও সেখানে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে সাত্তার ২০২৩ সালে স্বত্ব মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল রিভিশন মামলাও হয়। আগামী ১৯ আগস্ট ওই মামলার শুনানির তারিখ ছিল। তবে এই বিরোধের সাথে হত্যার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

এ দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে ভবানীটেকি গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইয়ের সাথে মারামারিতে আব্দুল হালিম ফকির (৫৫) নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, হালিম ও তার সহোদর হবিবুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ ছিল। মারামারিতে আহত হালিমকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর মারা যান। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম:

অন্য দিকে ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রাজাপুরে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো: কুদ্দুস খানকে (৪৫) কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের খালপাড় বাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। কুদ্দুসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।