নবীন চৌধুরী ধামরাই (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ করে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তিনি প্রায় ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করছেন। নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি ছয়জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন। এসব শ্রমিক প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরিতে তার খামারে কাজ করেন।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আবুল কালাম প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এ পদ্ধতিতে জমির ওপর বিশেষ মালচিং পেপার ব্যবহার করায় আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম হয়। পাশাপাশি জৈব সার ও সময়মতো সেচ নিশ্চিত করায় উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত মৌসুমে একই পরিমাণ জমিতে মালচিং ও প্রচলিত, দুই পদ্ধতিতে করলার চাষ করা হয়। এতে মালচিং ছাড়া জমি থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি হলেও মালচিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলা বিক্রি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেন আবুল কালাম। ফলে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর সুফল স্পষ্ট হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, কৃষকদের রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আবুল কালাম তার জমিতে জৈব সারের পাশাপাশি সরিষার খৈল ব্যবহার করেন, যা সবজির গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক। চলতি মৌসুমে তিনি ১২ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন সবজির আবাদ করেছেন।
কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত প্রশিণ ও কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছে। একই জমিতে সারা বছর কিভাবে নিরাপদ ও লাভজনক সবজি উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনার পাশাপাশি নিরাপদ কৃষিচর্চার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। এসব নির্দেশনায় ফসলের জমির পাশে ধূমপান নিষিদ্ধ, জমিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুরা সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা দমন সহজ হয়, বৃষ্টির পানিতে গাছের তি কম হয় এবং উৎপাদনও বাড়ে। কৃষকদের মধ্যে এ প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। আগামী মৌসুমে আরো বেশি কৃষক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



