আমতলীতে কচুরিপানা অপসারণে ২ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম

Printed Edition
মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কাটা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত
মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কাটা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া নদী ও শাখা নদীর ১৫ কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা অপসারণের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুযায়ী কচুরিপানা অপসারণ না করে দায়সারাভাবে কাজ করছেন ঠিকাদার বশির উদ্দিন। এতে কচুরিপানা নির্মূলের পরিবর্তে নতুন করে বংশবিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চাওড়া নদী ও শাখা খাল দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ভরে আছে। এতে পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীটির ওপর নির্ভরশীল হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৫ সালে বিএনপি নেতা ওমর আবদুল্লাহ শাহীন কচুরিপানা অপসারণের জন্য পাউবোতে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা অপসারণে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন কাজটি পান এবং গত ২ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করেন।

স্থানীয় মোস্তফা, আউয়াল ও বায়েজিদ মীরের অভিযোগ, দরপত্রে শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানার গোড়া মাটি থেকে তুলে অপসারণের কথা থাকলেও মেশিন দিয়ে শুধু ওপরের অংশ কেটে তীরে ফেলা হচ্ছে। এতে কচুরিপানা দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে।

নদীর পাড়ের বাসিন্দা শিবলী শরীফ ও নজরুল ইসলামও একই অভিযোগ করেন। তবে ঠিকাদারের ম্যানেজার জাহিদ হোসেন বলেন, নদীর পানি নষ্ট হওয়ায় শ্রমিকরা পানিতে নামতে চান না। তাই মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কেটে তীরে তোলা হচ্ছে।

অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান ঠিকাদারকে নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে কার্যাদেশ অনুযায়ী কচুরিপানা অপসারণ না করলে বিল দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজিজুর রহমান বলেন, কচুরিপানার গোড়া মাটি থেকে তুলে অপসারণ করতে হবে, যাতে পুনরায় বংশবিস্তার না করতে পারে। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী কচুরিপানা অপসারণের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করতে হবে।