অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
বিগত দিনগুলোর ধারাবাহিকতায় সূচকের বড় পতন দিয়েই নতুন সপ্তাহ শুরু করেছে দেশের পুঁজিবাজার। গত সপ্তাহেও প্রায় পুরোটাই পতনের পর শেষ কার্যদিবসে এসে পুঁজিবাজারগুলোর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রয়াস থাকলেও নতুন সপ্তাহের শুরুতেই ফের হোঁচট খেল দুই বাজার। চার ঘণ্টা লেনদেন সময়ের অর্ধেকটায় কোনোভাবে সূচক ধরে রাখলেও দুপুর ১২টার পর থেকেই প্রচণ্ড বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজারগুলো। তীব্র এ চাপ সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাজারগুলো।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৬৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। পাঁচ হাজার ৭৮৬ দশমিক ০৮ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি রোববার দিনশেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৭২২ দশমিক ২৪ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১৭ দশমিক ০৩ ও ১৫ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। একইভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৪ দশমিক ০৯ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ২২ দশমিক ২৪ ও ৪৪ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট।
সূচকের বড় অবনতি সত্ত্বেও গতকাল ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেনের সামান্য উন্নতি ঘটে। ডিএসই গতকাল ৭১১ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৪০ কোটি টাকা বেশি। গত বৃহস্পতিবার ডিএসই্র লেনদেন ছিল ৬৭১ কোটি টাকা। অপর দিকে, চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অবনতি ঘটে লেনদেনের। গতকাল বাজারটির মাত্র ছয় কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে। বৃহস্পটতিবার সিএসইর লেনদেন ছিল ১৮ কোটি টাকা।
বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই দিনের বাজার আচরণ নিয়ে ব্যাপক হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, বাজারের মূল্যস্তর বৃদ্ধি পেলে সংশোধন অপরিহার্য হলেও এ মুহূর্তে যে ধারাবাহিক পতন ঘটছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ তাদের জানা নেই। দেশের সার্বিক অর্থনীতি এখন কিছুটা চাপের মুখে তা ঠিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে দুই সপ্তাহ পুঁজিবাজার সূচকের টানা পতন ঘটবে। তারা মনে করেন, টানা এই নেতিবাচক আচরণ আবার বিনিয়োগকারীদের বাজারবিমুখ করে তুলতে পারে অথবা সচরাচর মন্দাবাজারে যা ঘটে সেই কারসাজির খপ্পরে পড়ে যেতে পারে বাজার।
এদিকে চীনের বিদ্যুৎচালিত অটোমোবাইল কোম্পানি বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির সাথে মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাগ্রিমেন্টের (এমএসএমএ) পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত ২৪ মার্চ ২০২৬ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত ঘোষণায় বিওয়াইডি চীনের সাথে মাস্টার সাপ্লাই অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাগ্রিমেন্ট করার বিষয়ে যে তথ্য জানানো হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এমএসএমএর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ রানার অটোমোবাইলস ও চীনের বিওয়াইডি অটো ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানির (বিওয়াইডি) মধ্যে স্বাক্ষরিত এমএসএমএর আওতায় পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করে। এরপর চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল লাইসেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট (টিএলএ) স্বাক্ষরের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এমএসএমএর আওতায় প্রকল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি সম্পন্ন করার অংশ হিসেবে কমপ্লিটলি বিল্ট-আপ (সিবিইউ) অবস্থায় বিওয়াইডির গাড়ি আমদানি ও বিতরণের অনুমোদন দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।
অর্থাৎ, দেশে বিওয়াইডির গাড়ি আমদানি ও বিতরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক এবং প্রকল্প স্থাপনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রানার অটোমোবাইলস। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এমএসএমএ চুক্তির কপি এখনো জমা দেয়া হয়নি।
অপর দিকে কোম্পানির পর্ষদের এহেন সিদ্ধান্তের মধ্যেই অনুমোদিত শেয়ার মূলধন ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। একইসাথে ২৫০ কোটি টাকার কিউমুলেটিভ ও নন-পার্টিসিপেটিং প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২০ আগস্ট ২০২৬ কোম্পানিটির ২০২তম পর্ষদ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় কোম্পানির চলমান ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়। পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রানার অটোমোবাইলসের অনুমোদিত শেয়ার মূলধন ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। তবে এ জন্য কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতর (আরজেএসসি) এবং প্রযোজ্য অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে। একইসাথে অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর ২০২৬ ইজিএম অনুষ্ঠিত হবে। সভা শুরু হবে সকাল সাড়ে ১১টায়। সভার স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে। ইজিএমে অংশগ্রহণের যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
একইসাথে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ২৫০ কোটি টাকার কিউমুলেটিভ, নন-পার্টিসিপেটিং প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। এসব প্রেফারেন্স শেয়ারে ৫০ শতাংশ কনভার্টিবিলিটি বা রূপান্তরের সুযোগ থাকবে। তবে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিবিধান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।



