নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরই তার দল নির্বাচনে যাবে। এর আগে দাবি অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ)’ আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম এই নেতা বলেন, জুলাই সনদের আদেশ অবশ্যই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমেই জারি করতে হবে। জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (মতভেদ) বলে কিছু থাকবে না। যেটুকু ঐকমত্যে গৃহীত হয়েছে সেটিই থাকবে, বাকিটা জনগণই নির্ধারণ করবে। তিনি জুলাই সনদের আইনগত কাঠামোর ভিত্তিতেই আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বলতে বাইরে থেকে যেটা বুঝতাম, যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা পড়াশোনা করেছিলাম, ভর্তি হওয়ার পর হতাশ হয়েছি। প্রথম বর্ষ থেকেই মনে হয়েছে পড়াশোনা ছেড়ে দেই। এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শুধু দাস তৈরির একটা কারখানায় পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যেখানে আসলে প্রশ্ন করা যায় না। সবসময় অনুগত থাকতে হবে। একটা চিন্তাকে, একটা রাজনীতিকেই মেনে নিতে হবে। ফলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের অ্যাক্টিভিজম করেছি। আমাদের একটা কৌশল ছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে।’
গত সরকারগুলোর সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে পদোন্নতি নির্ধারিত হয়েছে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে, যা ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে টিকিয়ে রেখেছে। একজন ভিসি ছিলেন, তিনি তার আত্মীয়স্বজনকে চাকরি দেয়ার জন্য নতুন নতুন ডিপার্টমেন্ট খুলেছিলেন।’
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, আগামী জাতীয় সংসদে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। তার মতে, এই সংসদই একটি সংস্কার পরিষদ গঠন করবে, যারা নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য কাজ করবে। তিনি বলেন, আমরা চাই আগামী সংসদ এবং সংস্কার পরিষদে তরুণ, শিক্ষক, নারী, সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব থাকুক, যাতে জুলাই সনদের চেতনা বাস্তবে রূপ পায়।
নাহিদ ইসলাম গড়ার কাজে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাঙ্গার কাজটা করেছি, আমরা গড়ার কাজটা কিন্তু করতে পারিনি। এখন আমাদের এই গড়ার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে শিক্ষকদের, সমাজকর্মীদের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সবসময় সামনে থাকব, কিন্তু গড়ার কাজের জন্য আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’



