খুলশীতে হিজড়া নেত্রী মৌসুমী হত্যায় গ্রেফতার ১

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে হিজড়া সম্প্রদায়ের নেত্রী মৌসুমী হিজড়া (৫২) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মো: মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাকে শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। মোমিন স্থানীয় অন্য এক হিজড়া নেত্রীর ‘কথিত স্বামী’ বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনির নিজ বাসা থেকে মৌসুমীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ঘরে একা থাকতেন এবং সম্প্রদায়ের একটি অংশের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সকালে প্রতিবেশীরা তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে বিছানায় উপুড় অবস্থায় লাশ দেখতে পান। তার মুখে রক্ত ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার তদন্তে নেমে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। এতে দেখা যায়, শুক্রবার রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করেন এবং রাত ৩টা ৫২ মিনিটে বের হয়ে যান। দরজায় টোকা দেয়ার পর মৌসুমী নিজেই দরজা খুলে দেয়ায় পুলিশের ধারণা হয়, ওই যুবক তার পূর্বপরিচিত ছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মোমিনকে গ্রেফতার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থ লুটপাটের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। স্থানীয়দের মতে, ঘটনার আগের দিন মৌসুমী একটি গরু বিক্রির মোটা অঙ্কের টাকা ঘরে রেখেছিলেন এবং পরদিন আরেকটি গরু কেনার কথা ছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পর ঘর থেকে সেই টাকা ও তার ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল ফোন নিখোঁজ রয়েছে।

এ ঘটনায় মৌসুমীর বাবা রুস্তম আলী বাদি হয়ে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে মোমিনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।