শেরপুরে সরকারি দামে মিলছে না সার, কৃত্রিম সঙ্কটের অভিযোগ

বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে না বিক্রির মেমো

Printed Edition

শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার শেরপুরে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে না বিক্রির মেমো। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও করেছেন কৃষকরা।

উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর ও সাতারা, মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা ও তালতা, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া, গাড়িদহ ইউনিয়নের মিচকীপাড়া এবং খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কৃষকেরা জানান, চাষাবাদের মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সাতারা গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমিতে চাষ করছেন। সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাইকারি ও খুচরা, কোথাও পর্যাপ্ত ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাগরপুরের সুদর্শন, জামাইলের মজনু ও বিশালপুরের সাইফুল ইসলাম বলেন, তারা ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। ডিলারদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি নিয়ে এক বস্তা করে সার দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশি দাম দিলে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এক হাজার ৫০ টাকা দামের ডিএপি বিক্রি হচ্ছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকায়। ইউরিয়া সারেও বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কাশিয়াবালা গ্রামের কৃষক বাচ্চু শেখ বলেন, প্রতিবছর সারের মৌসুমে ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন খুচরা সার বিক্রেতা বলেন, তারা সাধারণত বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করেন। তাদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকেই বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়। অতিরিক্ত দামে সার কিনলেও কৃষকদের দেয়া মেমোতে সরকারি মূল্য উল্লেখ করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলাররা। ডিলার শফিকুল ইসলাম শিরু বলেন, বাজারে সারের সঙ্কট নেই। বিএডিসির সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে কোনো কোনো সময় সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কুণ্ডু ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী তাপস কুণ্ডু বলেন, বাজারে সারের কোনো সঙ্কট নেই এবং অতিরিক্ত দাম নেয়ার প্রশ্নও আসে না। অনেক কৃষক আগাম সার কেনার চেষ্টা করায় সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়েছে। তার বরাদ্দের সার ১২ আগস্ট উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে টিএসপির সঙ্কট নেই, তবে ডিএপি সারের কিছুটা সঙ্কট রয়েছে বলে জানান তিনি।

শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে ডিলারদের খুচরা দোকানিদের কাছে সার বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা ছুটির দিনেও বাজার তদারক করছেন। অতিরিক্ত দাম নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সরকারি নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।