ঢাবি প্রতিনিধি
“ফেলানী হত্যার বিচার নিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বছরের পর বছর টালবাহানা করেছে। সে এই বিচার করতে দেয়নি। এই ফ্যাসিস্ট হাসিনা যেন আর কোনোদিন বাংলাদেশে জায়গা না পায়।” গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক হত্যার ১৫ বছর : আধিপত্যবাদবিরোধী কবিতা ও গান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম।
নুর ইসলাম বলেন, “আমি চাই, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তারা যেন ফেলানী হত্যার বিচার করে। শুধু ফেলানী নয়- সীমান্তে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের সবার হত্যার বিচার চাই।”অনুষ্ঠানে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, “ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা পুরো বাংলাদেশকে ঝুলিয়ে রাখার নামান্তর। ভারতীয় আধিপত্যবাদের মূল লক্ষ্য ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকার দমন করে নিজস্ব নীতি চাপিয়ে দেয়া এবং কৌশলগত স্বার্থ হাসিল করা।” তিনি আরো বলেন, “ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক প্রভুসুলভ হবে না, হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। যারা আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।” ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “গুজরাটের কসাই মোদির পরোক্ষ মদদে খুনি বিএসএফ কর্তৃক ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে বিচার দাবি জানানো উচিত ছিল। নির্বাচন-পরবর্তী যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের ভারতীয় সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর যথাযথ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাদের ইশতেহারে সুষম পানি বণ্টন, ফারাক্কা বাঁধ ভাঙার দাবি, সীমান্ত হত্যা ও সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তার নীতি থাকবে না- তাদেরকে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিন।” অনুষ্ঠানে আধিপত্যবাদবিরোধী বিভিন্ন গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তি করেন খ্যাতিমান শিল্পীরা।



