পাঁচ জেলায় নিহত ৭

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের পাঁচ জেলায় ট্রাক চালক, শ্রমিক ও বৃদ্ধসহ সাতজন নিহত হয়েছেন।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কে পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে একজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পর একটি ট্রাকের চালক রাশেদুল সিটের সাথে চাপা পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। এ ঘটনায় হেলপার গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এ দিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে মোটর বাইকের ধাক্কায় দ্বীপ সাহা (৩০) নামে এক ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

২৪ আগস্ট (সোমবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারাইহাট এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দ্বীপ সাহা ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পশ্চিম কাঁটাবাড়ী মহল্লার দিলীপ সাহার ছেলে। তিনি পেশায় মুদি-ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ফুলবাড়ী মেইন রোডের গামার গলির মুখে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।

বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার শাজাহানপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আশিকুর রহমান (২২) ও মুজাহিদুল ইসলাম সামিউল (৩০) নামে দু’জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর রাত ৩টার দিকে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় লিচুতলা-মাটিডালী দ্বিতীয় বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আশিকুর রহমান সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের হলিদাবগা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি ছাত্র ছিলেন। অপর নিহত সামিউল গাবতলী উপজেলার স্বরধনকুটি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসা করতেন।

শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, নিশ্চিন্তপুর চারমাথা এলাকায় মহাসড়কের মাঝখানে দু’জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশ দু’টি উদ্ধার করে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরায় মর্নিং ওয়ার্ক করার সময় দ্রুতগতির একটি পরিবহনের ধাক্কায় ছিটকে রাস্তার পাশে পানিতে পড়ে আনন্দ কুমার দাস (৫৩) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে পাটকেলঘাটা থানাধীন সাতক্ষীরা -খুলনা মহাসড়কের শাকদহ ব্রিজের অদূরে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আনন্দ কুমার দাস সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার শাকদহ গ্রামের কৃষ্ণপদ দাসের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আনন্দ দাস সকালে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাশ দিয়ে মর্নিং ওয়াক করছিলেন। এ সময় সকাল ৭টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১২-৪৪৬২) শাকদহ ব্রিজের অদূর তাকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে রাস্তার পাশে পানিতে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর পলাশে ইটবোঝাই লরির ধাক্কায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপের শ্রমিক সেলিম মিয়া (৪২) নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পলাশ উপজেলার ডাংগার তেপোথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সেলিম মিয়া ডাংগা ইউনিয়নের সান্তানপাড়া গ্রামের মিয়াজিগাঁও এলাকার মৃত আয়ুব আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির চরকা টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল সকালে সেলিম মিয়া সাইকেলযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ৭টায় ডাংগা-পাঁচদোনা সড়কের তেপোথা এলাকায় পৌঁছলে ইট বোঝাই একটি ট্রলি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ সময় সড়কের পাশে ট্রলি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ট্রলি চালক।

নড়াইল প্রতিনিধি ও লোহাগড়া সংবাদদাতা জানান, নড়াইল-ঢাকা- বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের লক্ষীপাশা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাচ্চু খান (৭০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় লক্ষীপাশা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাচ্চু লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের বাসিন্দা। এ দুর্ঘটনায় বাসসহ চালক নূর ইসলামকে (৬০) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সদরের লক্ষীপাশা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন বাচ্চু খান। এ সময় নড়াইল থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়াগামী যাত্রীবাহী বাস বাচ্চুকে ধাক্কা দিলে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।