হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৬১ জনে পৌঁছেছে

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হাম ও উপসর্গে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে সিলেটে তিনজন ও ময়মনসিংহে একজন মারা গছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৭৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে দেশজুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬১ জন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৫৬৮ জন। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৮৭ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯৬৬ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৮৯৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ হাজার ২৭৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৮৮ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৬৮ শিশুর। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিলেটে হামে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেট ব্যুরো, সিলেটে হাম উপসর্গে আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১ ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় একজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৫৬ জন। গতকাল এ তথ্য জানান সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ছয় মাসের শিশু রাইয়ান সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া এই সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া পাঁচ মাসের তাউসিফ ইসলাম সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার এবং সাত মাসের আমায়রা জান্নাত সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৮৪ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে একজন ২২ বছরের নার্স এবং বাকি ৭১ জন শিশু। এর মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকিরা উপসর্গে মারা গেছেন।