সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
অমর একুশে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দোয়া আর বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিল জনস্রোত। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়, তা চলে সাহরির আগ পর্যন্ত। সাহ্রি শেষে ভোর সাড়ে ৬টায় প্রভাতফেরিতে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন। আগতরা খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে ফুল নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় অনেকের পরনে ছিল একুশের প্রতীক সাদাকালো পোশাক। বাদ যায়নি ছোট্ট শিশুরাও। বাবা মায়ের সাথে বিভিন্ন ভাষার বর্ণ, পতাকা আর ফুল হাতে ভাষাসৈনিকদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে তারা।
রাতের প্রথম প্রহরে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, বিচারপতি, মন্ত্রিসভা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, এনসিপি, কূটনীতিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি, তিন বাহিনীর প্রধান, নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
শ্রদ্ধা নিবেদন করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল, বাসদ (মার্ক্সবাদী), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদিচি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
রাতে প্রথম প্রহরের শ্রদ্ধা নিবেদন যখন চলছিল তখন নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো মানুষ। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা জড়ো হন শহীদ মিনারের আশপাশে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেয়া হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে একে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন শুক্রবার রাত ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ১২টা ৮ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার চারদিনের মাথায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে তিনি শহীদ মিনারে এসেছিলেন।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, একুশে উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, একুশে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং সদস্যসচিব সাইফুদ্দীন আহমেদ শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে দোয়া করা হয়। ভাষাশহীদসহ মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ, চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয় এ সময়।
কালো পাঞ্জাবি পরিহিত তারেক রহমান শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে দোয়ায় অংশ নেন। তারপর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও এ সময় আলাদাভাবে ফুল দেয়া হয়।
এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো: জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভা ও বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারেক রহমান তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সাথে নিয়ে জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত ১২টা ২১ মিনিটে শহীদ মিনার ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মুনাজাতে অংশ নেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
১১ দলীয় জোটের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিদেশী রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা শহীদ মিনারে ফুল দেন। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান তাদের বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাতের প্রথম প্রহরের দিকে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান দলটির নেতারা। এ সময় দলের আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনাররা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এদিকে ভোর ৬টায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় দেশের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তিনি ভাষা শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্য দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা তাদের দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। অমর একুশের প্রথম প্রহরে রাত ২টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এসময় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কোনো পরিচিত নেতাকে দেখা যায়নি।
মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির গৌরবময় স্মৃতি, সেই সাথে বেদনা আর শোকের রক্তঝরা দিন অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে।
প্রতিবাদের মুখে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালি রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, তা এখন বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবার মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
খুলনায় শহীদ দিবস পালিত
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শনিবার প্রথম প্রহরে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে শহীদ মিনারে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার ও কেসিসির প্রশাসক মো: মোখতার আহমেদ, কেএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার, জেলা পরিষদ, কেডিএ, চেম্বার অব কমার্স, আইনজীবী সমিতি, বিভিন্ন সরকারি দফতর, খুলনা প্রেস ক্লাব, এমইউজে খুলনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহানগর ও জেলা বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়। ভোর হতেই প্রভাতফেরি সহযোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।
নগরভবনে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। বাদজোহর কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ নগরীর সব মসজিদে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও দেশের কল্যাণ-শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়ায় অমর একুশে পালিত
বগুড়া অফিস জানায়, যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বগুড়ায় সরকারি ও বেসরকারি আয়োজনে অমর একুশে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের শুরুতে বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন অফিস, বগুড়া প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া সহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক সংগঠন। সকালে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানােেনা হয়। সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি অফিসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি, সদর উপজেলা সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল প্রমুখ। শহর জামায়াতের উদ্যোগে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শহর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবিদুর রহমান সোহেল, সেক্রেটারি আব্দুল মালেক প্রমুখ। বগুড়া প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, রাহাত রিটু, মির্জা সেলিম রেজা, মহসীন রাজু, মতিউল ইসলাম সাদি, আব্দুর রহিম বগরা, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ।
গাজীপুরে শহীদ বরকতের মায়ের কবরে মানুষের শ্রদ্ধা
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি জানায়, গাজীপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শনিবার শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে গাজীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন করেন গাজীপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং গজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। শহীদ আবুল বরকতের পরিবারের সদস্যরাও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে থাকে। বিভিন্ন বয়সী লোকজন একক বা দলবেঁধে শহীদ মিনারে আসেন শ্রদ্ধা জানাতে।
এ দিকে দিবসটি উপলক্ষে ভাষা শহীদ আবুল বরকতের পরিবারের সদস্যরা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নলজানী এলাকায় বরকতের মা হাসিনা বানুর কবরের পাশে দিনভর কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫২’র বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।
শুক্রবার রাত ১১টার পর থেকেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ সমবেত হতে থাকেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে সশস্ত্র সালাম প্রদর্শন করে পুলিশের একটি চৌকস দল।
রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও সংসদ সদস্য মো: এরশাদ উল্লাহ। এ সময় সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এ দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দিন বলছেন, ভাষা আন্দোলনের প্রেরণাই পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে শক্তি জুগিয়েছিল। ১৯৫২ সালের চেতনাই জাতিকে অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে বারবার রাস্তায় নামতে সাহস জুগিয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও একুশের কবিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি সঞ্চয় সরকার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা শিক্ষক শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক পুরস্কার তুলে দেন।
রংপুর ব্যুরো জানায়, শনিবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার বিভিন্ন বয়সী নারী ও পুরুষ শহীদ মিনারে এসে জড়ো হন। অংশ নেন শিশুরাও। সেলফি তুলে, ছবি তুলে, গান গেয়ে, আবৃত্তি করেন অনেকেই।
দুপুরে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ভাষা শহীদদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এতে ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ আফজাল, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, ডিসি মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন।



